উদ্বাস্তুদের জমি দখল করে টাকা আত্মসাৎ, সুমিতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ CID-র

Published:

Sumit Roy

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চাকরি দুর্নীতি মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেও জমি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রক্ষকবচ প্রত্যাহার করতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে (Sumit Roy) গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এমনকি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সমস্ত অভিযোগ স্বীকারও করেছেন বলে খবর। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, দুর্নীতির সঙ্গে আরও বড় বড় নাম জড়িত রয়েছে। তবে চার্জশিটে সিআইডি দাবি করছে যে, শালবনিতে উদ্বাস্তুদের জন্য বরাদ্দ জমি দখল করে নেওয়া হয়েছিল, যার পেছনে রয়েছে সুমিত রায়।

সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে উদ্বাস্তুদের জমি দখলের অভিযোগ

শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। জমি জালিয়াতির টাকা সুমিতকে তাঁর দফতরে পাঠিয়ে দিতেন প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা, এমনটাই দাবি সিআইডির। যদিও ইতিমধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে সুজয়ের নাম থাকলেও অভিযুক্ত হিসেবে সুমিতের নাম উল্লেখ ছিল না। পাশাপাশি সেখানে মোট ২০ জন সাক্ষীর কথা উল্লেখ করেছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছেন অভিষেকের দুই প্রাক্তন দেহরক্ষী এবং দু’জন ড্রাইভার।

তাঁদের বয়ান মারফত সিআইডি জানতে পেরেছে, উদ্বাস্তুদের চাষের জন্য ওই জমি বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে সুজয়, অনিতেশ পাইরা এবং তাঁদের সহযোগীরাই ওই জমি দখল করে নেন। সুমিতের নির্দেশেই সব চক্রান্ত চলে বলে অভিযোগ সিআইডির। পাশাপাশি সুমিত রায়ের সঙ্গে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, সুজয় জমির টাকার একটি বড় অংশ সুমিতকে তাঁর দফতরে পাঠাতেন। এর পাশাপাশি সুজয়ের হয়ে কাজ করতেন দুই দালাল দেবাশীষ দে এবং সুব্রত হাজরা। তাঁরাও সুমিতকে টাকা পাঠানোর কথা নিজেরা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: জেলেও অশ্লীল কাণ্ড! প্রজ্বল রেভান্নার ফোনে মিলল ১৪৫টির বেশি পর্ন ক্লিপ ও সিনেমা

পাশাপাশি ওই জমির দলিলগুলি ভুয়ো বলেই অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। অনেকের নির্দিষ্ট ঠিকানা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যন্ত তাঁদের চিনতে পারেনি বলেও উঠছে দাবি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা সেখানে চাষাবাদ করলেও ২০২১ সালের পর তাঁদের জোর করে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেই জানাচ্ছে সিআইডি। পাশাপাশি ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে মোট ৭ কোটি টাকা জমা পড়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তবে এই টাকার উৎস কী তা জিজ্ঞাসা করার সময় জানাননি সুমিত।

google button