সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটের আবহে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে। তবে তারই মধ্যে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় রাজনৈতিক স্লোগানের ভিড়ে সবথেকে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াচ্ছে লটারি (Lottery)। টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন যে আসলে মরীচিকা তা এখন স্থানীয় বাসিন্দারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। লটারি ব্যবসার কুপ্রভাব নিয়ে এখন ফালাকাটার (Falakata) জায়গায় জায়গায় চলছে প্রতিবাদ। আসল সমস্যাটা কোথায়?
লটারি কেটে সর্বস্বান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ
সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর মজুমদার দাবি করছেন যে, লটারি ব্যবসা সমাজকেই কুরে কুরে খাচ্ছে। তাঁর দাবি, আমাদের গ্রামের কিছু যুবকরা চড়া হারে ঋণ নিয়ে লটারির টিকিট কাটত। আর আজ তারা সর্বস্বান্ত। তারা নিঃস্ব। ঋণের দায়ে আমার চেনা দুই-তিনজন যুবক আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। এমনকি রিক্সাচালক বা টোটো চালকদের উদাহরণ টেনে এনে তাঁর সংযোজন, দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করে যদি কেউ ১৫০ টাকার লটারি কাটে, তাহলে তার পরিবার খাবে কী? কীভাবে সংসার চলবে?
এ বিষয়ে লটারি বিক্রেতা বীরেন্দ্র সরকার জানাচ্ছেন, এই ব্যবসায় আদতে কোনও রকম স্থিতিশীলতা নেই। দিনে ৮০০-৯০০ টাকার টিকিট বিক্রি করেও লাভের কোনও রকম নিশ্চয়তা নেই। যদি কোনও বড় পুরস্কার না ওঠে তাহলে লাভ থেকে যায় প্রায় শূন্য। অন্যদিকে দীপক নামের আরও এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, লটারির সবথেকে বড় খদ্দের আসলে দোকানদার নিজেই। কারণ, দিনের শেষে অবিক্রিত টিকিটগুলি তাকেই কিনতে হয়। আর তাতে কোনও পুরস্কার না থাকলে দোকানদারকে অনেকটাই লোকসান খেতে হয়।
এদিকে লটারি যে কেবলমাত্র কোনও খেলা নয়, বরং ভয়ংকর জুয়া ও নেশা তা স্পষ্ট উঠে এসেছে হরেকৃষ্ণ দাস নামক এক ব্যক্তির কথায়। গত ৩০ বছর ধরে লটারি কাটছেন তিনি। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, গত তিন দশকে নাকি তিনি প্রায় ৮ থেকে ৯ লক্ষ টাকা লটারিতে খরচ করেছেন। তবে তার বদলে ফেরত পেয়েছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা। এক কথায় লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়েছে। তাঁর এই ৩০ বছরেই ক্ষতি হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। তাঁর কথায়, এরকম অনেকে রয়েছেন, যারা লটারি না কাটলে রাতে ঘুমোতেই পারেন না। অথচ তাদের এতেই সর্বস্বান্ত হতে হয়।
আরও পড়ুন: সিমলা যাওয়া আরও সহজ, হাওড়া-চন্ডিগড় স্পেশাল ট্রেন দিল রেল, দেখুন সময়সূচি
রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বড়সড় দাবি
এদিকে ভোটের আগে ফালাকাটার বাসিন্দারা সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে স্পষ্ট দাবি জানাচ্ছেন যে, শাসক দল তৃণমূল থেকে শুরু করে বিজেপি বা বাম কিংবা কংগ্রেস, প্রতিটি দলকেই লটারি বন্ধের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এমনকি লটারি বন্ধ হলে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলি বিপাকে পড়বে। তাই তাদের বিকল্প কাজের সংস্থান করে দিতে হবে সরকারকে। এখন দেখার, প্রশাসন তাদের এই দাবি মেনে নেয় কিনা।










