সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই কার্যত চমক দিয়েছেন নবনির্বাচিত অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে একাধিক কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ, সবকিছুতেই রয়েছে চমক। তবে এবার রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য বিরাট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ বিলে বেশকিছু সংশোধনী এনেছে এবার রাজ্য সরকার। আর সেক্ষেত্রে বেসরকারি কর্মীদের পি ট্যাক্সে আনা হল বড় বদল।
বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
আসলে এতদিন পর্যন্ত বেসরকারি কর্মচারীরা রাজ্যের কোনও সংস্থায় কাজ করলে যদি সেই কোম্পানির মূল অফিস বা হেড কোয়ার্টার ভিন রাজ্যে হত, তাহলে সেই কর্মীর পি ট্যাক্স সরাসরি ভিন রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়ত। তবে এখন থেকে তেমনটা হবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল, করের বোঝা না বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা। কারণ, কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণের জালে জর্জরিত এই বাংলা। সেক্ষেত্রে মোটা অংকের টাকা রাজস্ব আদায় না হলে রাজ্যের অর্থনীতি যে এত সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
পি ট্যাক্স সংক্রান্ত নতুন নিয়মে এবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও কর্মী যে সংস্থায় কাজ করছেন, তাদের হেডকোয়ার্টার যদি অন্য রাজ্যে বা ভিন রাজ্য হয়, তাহলে এতদিন কর্মীর পি ট্যাক্স সেই রাজ্যের কোষাগারেই জমা পড়ত। তবে এখন থেকে যদি সেই কর্মীর কর্মস্থল পশ্চিমবঙ্গে হয়, কিন্তু মূল অফিস অন্য রাজ্যে হলেও পি ট্যাক্সের টাকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোষাগারেই জমা পড়বে। এতে রাজ্যের রাজস্ব আদাই অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। তবে এটি শুধুমাত্র বেসরকারি খাতে কর্মরত কর্মীদের জন্যই প্রযোজ্য।
আরও পড়ুন: মধু থেকে ঘি-তেল, ডাবরের একাধিক পণ্যের বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা FSSAI-র
মন্ত্রীর কথায়, “সরকারি কর্মচারী কমছে। কিন্তু প্রাইভেটে কর্মী বাড়ছে। এতদিন বাইরে সেটা দেখছিলাম। এখানেও এখন তাই হচ্ছে। তাই রাজ্যের ক্ষেত্রে আমরা সেটা করলাম। এমনকি প্রতিটি সংস্থাকে সরকারের কাছে ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় জানাতে হবে যে সেই সংস্থায় পি ট্যাক্স দেওয়ার মতো কর্মচারী কতজন রয়েছেন। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি পেলে রাজ্য সরকারের আয় অনেকটাই বাড়বে। এমনকি এতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় আনাও আরও সহজ হবে।










