রেশনে দিতেই হবে উন্নত মানের চাল, গম! কড়া নির্দেশিকা জারি খাদ্য দপ্তরের

Published:

Ration Food Grains

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রেশন (Ration) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার দেশের কম আয়ের ও দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মানুষদের সাহায্যার্থে বিনামূল্যে বা খুব সস্তায় চাল, ডাল, চিনির মতো খাদ্যদ্রব্যগুলি দিয়ে থাকে। কিন্তু অনেকসময় রেশনে দেওয়া জিনিসগুলির মান নিয়ে অভিযোগ করেন উপভোক্তারা। তবে এবার রেশন দোকানের চাল, ডাল, গমের গুণমান যাতে বজায় থাকে তার জন্য সক্রিয় হয়েছে খাদ্য দপ্তর (Food and Supply Department)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এবিষয়ে একটি এসওপি (SOP) করা হয়। এখন রেশন দোকানের খাদ্যদ্রব্যের মজুত ও  সরবরাহের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 

রেশনের খাদ্যসামগ্রীর গুণমান বজায় রাখতে জারি নতুন নির্দেশিকা 

খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, নিয়মিত ভাবে খাদ্যশস্যের নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করা হবে। আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পরিদর্শনের সংখ্যা আরো বাড়াতে।  গুণগত মান  পরীক্ষার জন্য পরিদর্শন এবং নমুনা পরীক্ষার মাসিক রিপোর্ট দিতে হবে আধিকারিকদের। যে সমস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা গুণগতমান পরীক্ষা করবেন তাদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য দপ্তর। দরকার পড়লে অন্য ডাইরেক্টরেটের অফিস থেকে কর্মী ও আধিকারিকদের নিয়ে এসে আচমকাই রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের দোকান, গুদামে পরিদর্শন অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়াও বলা হয়েছে খাদ্য দপ্তর এর গুদামে খাদ্যশস্য আশার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সেগুলি পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে গুণগত মান সঠিক আছে কিনা। যদি নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায় যে গুদামে খাদ্য সামগ্রী ঢোকার সময় গুণমান নিয়ে যা নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার সাথে পরীক্ষার গুণমান মিলছে না, তাহলে সেই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। এই কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের ৪৬৫টি বেসরকারি স্কুলের স্বীকৃতি বাতিল করল বিজেপি সরকার

চাষীদের থেকে সরকার যে ধান কেনে, তা নথিভুক্ত রাইস মিলে পাঠানো হয় চাল তৈরি করার জন্য। সেই চাল খাদ্য দপ্তরের গুদামে মজুত করা হয় এবং রেশন ডিস্ট্রিবিউটাররা সেটি রেশন দোকানে পাঠান। অন্যদিকে, এফসিআই (FCI) মারফত খাদ্য দপ্তরের কাছে গম আসে, যা ডিস্ট্রিবিউটারদের মাধ্যমে রেশন দোকানে পৌঁছায়। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া জানিয়েছেন, প্রতি কেজি চাল বাবদ সরকারের খরচ হয় ৪২ টাকা। এত টাকা খরচ করেও রেশনে চালের গুণগত মান খারাপ হলে, তা বরদাস্ত করবে না সরকার। দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ শোনা যায় যে, রাইস মিলের মালিকরা খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের সাথে যোগসাজশ করে নিম্নমানের চাল রেশনের দোকানে পাঠায়। চাষীদের থেকে সরকারি উদ্যোগে কেনা ধানের চাল চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি হয়ে যায়।  এদিকে চলতি মাস থেকেই রেশনে নিম্নমানের আটা যাতে গ্রাহকদের আর কিনতে না হয় সেই জন্য গম বিলি করা শুরু হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের এই তৎপরতা কতটা ফলপ্রসু হয় সেটাই এখন দেখার। 

google button