সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের (OBC Case) নতুন নিয়মকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থীদের কি আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণি বা ইডব্লিউএস সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে? এই সংক্রান্ত প্রশ্নে এবার পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে চাইল হাইকোর্ট। চাকরিপ্রার্থীদের দায়ের করা এক মামলার শুনানিতে সোমবার রাজ্যের উচ্চ আদালতের বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এমনই নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবিসি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের
আদালত জানিয়েছে, পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং রাজ্য সরকারকে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে হলফনামা জমা দিতে হবে। এমনকি পর্ষদ এবং রাজ্যের বক্তব্য পাওয়ার পর মামলাকারীরা তার পরিপ্রেক্ষিতে এক সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা পেশ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি একই সঙ্গে বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই সময়সীমার মধ্যে নেওয়া যাবতীয় পদক্ষেপ মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে। এমনকি আগামী দিন এই মামলার শুনানি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত নিয়মিত এজলাসেই হবে।
এদিন মামলাকারীদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে যখন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, তখন মামলাকারীরা প্রচলিত সমস্ত নিয়ম মেনেই ওবিসি প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণের নিয়মে পরিবর্তন আসায় তৈরি হয় জটিলতা। নতুন এই নিয়মের ফলে মামলাকারীরা ওবিসি সংরক্ষণ থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়েন। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে তারা ইডব্লিউএস শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে ফের পতন সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
এদিকে রাজ্য সরকার তাদের আবেদন বিবেচনা করে এবং যাচাইয়ের পর ইডব্লিউএস শংসাপত্র তুলেও দেয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের দেওয়া বৈধ ইডব্লিউএস শংসাপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনপত্রে তাদের সেই সংরক্ষিত কোটার সুযোগ গ্রহণের বিকল্প সুবিধা দেওয়া হয়নি। সেই কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। যদিও পর্ষদ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই প্রার্থীরা নিজেদের ক্যাটাগরি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যারা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তথ্য সংশোধন করেননি, নিয়ম অনুযায়ী তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সাধারণ শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।










