প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাবার মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে হয়রানি (Death Certificate Delay), শেষে পঞ্চায়েতে এসে কেরোসিন হাতে নিয়ে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি এক ব্যক্তির। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের (Birbhum) লাভপুরে। অভিযোগ স্থানীয় এক বিজেপি নেতার ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে এত হয়রানিতে পড়তে হয়েছিল। এদিকে এই ঘটনায় পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বীরভূমের লাভপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বাবলু হাজরার বাবা গত ১১ অক্টোবর মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর শংসাপত্র এখনও পঞ্চায়েতের তরফে দেওয়া হয়নি। বাবলু হাজরা অভিযোগ সমস্ত নিয়ম এবং তথ্য দিয়ে বাবার মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু সেটি দেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার হয়রানি করা হয়েছে পঞ্চায়েতের তরফে। এদিকে এই হয়রানির পিছনে এক স্থানীয় বিজেপি নেতার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে।
দ্রুত তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
বাবলু হাজরার দাবি, বিজেপি নেতা সঞ্জয়ের ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে এত সমস্যা হচ্ছে। দিনের পর দিন এই সমস্যা বাড়তে থাকায় শেষে পঞ্চায়েত দপ্তরে একটি কেরোসিনের বোতল হাতে নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন তিনি। এবং হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি পঞ্চায়েত দপ্তরেই আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দেন, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিকে আত্মহত্যার কথা শুনে ঘাবড়ে যান সরকারি আধিকারিকরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। শেষে পুলিশ ও পঞ্চায়েতের অন্যান্য আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আরও পড়ুন: আমডাঙ্গায় বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকা কেজি চিকেন
পুলিশ এবং স্থানীয়রা অভিযোগকারী বাবলু হাজরাকে বুঝিয়ে শান্ত করে এবং তাঁর কাছ থেকে কেরোসিনের বোতলটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে জানানো হয়, শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে কোথাও সমস্যা হচ্ছিল কিনা এবং কোনো রাজনৈতিক প্ররোচনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়মমাফিক দ্রুত শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই বিজেপি নেতার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন দেখার ওই শংসাপত্র পেতে কতদিন সময় নেয় প্রশাসন।










