রাস্তায় বিক্রি করেছেন মোবাইল কভার, NEET ক্র্যাক করে ডাক্তার হওয়ার পথে রোহিত

Published:

NEET UG Success Story of Rohit Kumar

অনন্যা সরকার, ঝাড়খণ্ড: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যদি স্বপ্ন পূরণের প্রবল ইচ্ছা ও মনে দৃঢ় সংকল্প থাকে, তবে সাফল্য ঠিক আসবেই। এই কথাটি রোহিত কুমার বাস্তব জীবনে প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন (NEET UG Success Story of Rohit Kumar)। তিনি আর্থিক প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার কাছে কখনো নতি স্বীকার করেননি। সংসারের খরচ মেটানোর জন্য তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জন করতে শুরু করেন। রাস্তায় মোবাইল কভার বিক্রি করতেন, কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি। যখন টাকার অভাব হয়েছে, তখন তাঁর দাদা তাকে সাহায্য করে গেছেন এবং পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। রোহিত তিনবারের প্রচেষ্টায় নিট ইউজি (NEET UG) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এখন তিনি এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তি হয়েছেন এবং ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে দৃপ্ত পদে এগিয়ে চলেছেন। চলুন তাহলে রোহিতের নিট সাফল্যের গল্পটি জেনে নেওয়া যাক। 

জামশেদপুরের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে NEET পরীক্ষায় সাফল্য

রোহিত কুমার ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের এক সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে উঠেছেন। তিনি একটি ভিডিওতে জানান যে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তার পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। রোহিত ডিএসএম স্কুলে নবম এবং দশম শ্রেণিতে পড়েছিলেন। জীবনের শুরুতে তিনি দারিদ্র্য ও দায়িত্বের সম্মুখীন হন, যা তাঁকে ভবিষ্যতে বড় কিছু অর্জন করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তাঁর দাদা রাহুল সিং, রোহিতের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে কাজ করতে মুম্বাই চলে যান। তিনি রোহিতের টিউশন ফি যোগাতেন। তবে এতেও মেটেনি অভাব, তাই রোহিত একটি ওষুধের দোকানে কাজ শুরু করেন। এছাড়া তিনি রাস্তার ধারে মোবাইল কভারও বিক্রি করতেন। সেখান থেকেই তিনি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে যাত্রা শুরু করেন।

আরও পড়ুন: অভাবকে হারিয়ে জয় কৃষকের ছেলের! মাইক্রোসফটে ১ কোটির চাকরি পেলেন খড়্গপুরের সুমন

বড়, নামি-দামি কোচিংয়ের ফি দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না রোহিতের পরিবারের, তাই ইউটিউব দেখে নিজে নিজেই পড়াশোনা করতেন। ২০২৩ সালে প্রথম চেষ্টায় সে ৪৮৫ স্কোর করেন। পরের বছর তিনি ৬১৯ স্কোর করলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে নির্বাচিত হতে পারেননি। এরপর ২০২৫ সালের প্রস্তুতির সময় রোহিতের মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার ভাইকেই সমস্ত খরচ বহন করতে হয়। রোহিতের পড়াশোনা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস হাসপাতালেই কাটাতে হয় তাঁকে। এরপর এপ্রিলে রোহিত গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়, যার কারণে তাকে ২০ দিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়। তবে, সুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই তিনি আবার নিটের প্রস্তুতি শুরু করেন।

রোহিত কুমার ২০২৫ সালে নিট পরীক্ষায় পরীক্ষায় ৭২০-এর মধ্যে ৫৪৯ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক (AIR) ১২,৪৮৪ অর্জন করেন। এরপর তিনি ঝাড়খণ্ডের সবচেয়ে বড় ও নামকরা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (RIMS)-এ এমবিবিএস প্রোগ্রামে ভর্তি হন। এখন, তাঁর ডিগ্রি কোর্সের পড়াশোনা চলছে, যে পথে তিনি একজন ডাক্তার হয়ে উঠবেন। রোহিতের এই কঠোর পরিশ্রম ও জীবন-সংগ্রামের কাহিনী বহু নিট পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

google button