রাতেই আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল বৃষ্টি, বাংলায় দুর্যোগের আশঙ্কা কতটা?

Published:

Cyclone Murasu

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যরাতেই খেলা দেখালো ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ (Cyclone Murasu), লণ্ডভণ্ড করে দিল অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা। জানা গিয়েছে, এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে (Cyclone Murasu Landfall) পড়েছিল। এবং ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিবেগে সাড়ে ৩টে থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায়, প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে আছড়ে পড়ে এই ঘূর্ণিঝড়। এমতাবস্থায় বাংলার আবহাওয়া (Rain Alert In West Bengal) নিয়ে বিরাট আপডেট দিল হাওয়া অফিস।

প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

ঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাপটলা, কৃষ্ণা এবং প্রকাশম জেলায় প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। মৌসম ভবন জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে ঘূর্ণিঝড়টি ওঙ্গোল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, নেল্লোর থেকে ১০০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পূর্বে এবং মাচিলিপত্তনম থেকে ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার উপকূলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন

ঘূর্ণিঝড়ের এদিকে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতেও শুরু হয়েছে বৃষ্টি। মধ্যরাত থেকেই পুদুচেরিতে একটানা বৃষ্টির জেরে ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। এলুরু, এনটিআর, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, নেল্লোর-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিধ্বংসী ঝড়ের লণ্ডভণ্ড চিত্র ধরা পড়েছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতিতে তৎপর প্রশাসন।

আরও পড়ুন: চাকরি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য

জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার কাজ চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ পরিকাঠামো দ্রুত মেরামত করে কোঠাপত্তনমে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজও চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। এখন প্রশ্ন উঠছে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলায় কতটা প্রভাব পড়বে।

বাংলায় কতটা প্রভাব পড়বে?

শেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ‘মুরাসু’-র প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। তবে আজ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এবং বাকি জেলা শুকনো থাকবে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

google button