অনন্যা সরকার, কলকাতা: সন্তানের পড়াশোনায় অনীহা নিয়ে অনেক সময় বাবা-মায়েরা গভীর উদ্বেগে পড়েন। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বাবা-মায়েরা প্রচণ্ড মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন। বেশিরভাগ সময়ই তারা সন্তানের ওপরই ক্ষোভ উগড়ে দেন। তবে বাস্তু পরামর্শদাতাদের মতে, কেবল সন্তানকে দোষারোপ না করে বাবা-মায়ের উচিত বাড়িতে সন্তান যেখানে পড়াশোনা করছে, সেই জায়গাটি বাস্তুসম্মত কি না তা পরখ করে দেখা (Vastu Tips)। তাদের যুক্তি, কোনো স্থানের দিকবিন্যাস বা অবস্থান শিক্ষার্থীর মনোযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র মেনে কিছু পরিবর্তন আনলে, তা শিশুদের মনোযোগী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পড়াশোনার জায়গা সম্পর্কে বাস্তু বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
বাস্তুমতে পড়াশোনার জন্য কোন দিকটি উপযুক্ত?
সব মা-বাবাই চান তাঁর সন্তান ভালোভাবে লেখাপড়া শিখে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। তার জন্য অনেক বাবা-মা সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সন্তানের শিক্ষার পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করেন, ভালো মানের শিক্ষার নিশ্চয়তার জন্য তাদের নামিদামি স্কুলে ভর্তি করান। কিন্তু তাও দেখা যায়, সন্তান পড়াশোনায় মোটেও আগ্রহী নয়। এমন পরিস্থিতিতে বাবা-মা প্রায়শই ধরে নেন যে, সন্তানের হয়তো পড়াশোনার ইচ্ছাই নেই, অথবা শিক্ষক ঠিকমতো পড়াচ্ছেন না। তখন স্কুলের মান নিয়েও তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগে।
তবে বাস্তু পরামর্শদাতারা বলছেন সন্তান যেখানে বসে পড়াশোনা করছে, সেই জায়গাটি আদৌ উপযুক্ত কি না, তা বাবা মায়েদের খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের মতে, পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত স্থানটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞরা বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের পশ্চিম অংশকে ‘শিক্ষাক্ষেত্র’ বা ‘এডুকেশন জোন’ বলে থাকেন। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তানের বইপত্র ও পড়াশোনার অন্যান্য উপকরণ যেন এই জায়গায় রাখা হয় এবং তারা যেন এখানে বসেই পড়াশোনা করে।
আরও পড়ুন: রাস্তায় বিক্রি করেছেন মোবাইল কভার, NEET ক্র্যাক করে ডাক্তার হওয়ার পথে রোহিত
বাস্তুবিদদের দাবি, এই দিকে রাখা জিনিসপত্র সন্তানের মনোযোগ আকর্ষণে সাহায্য করতে পারে, যা বই ও পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। বই রাখার জায়গা ও সন্তানের পড়াশোনা করার স্থান পরিবর্তন করলে, তা সন্তানের মনোযোগ বৃদ্ধিতে অনেকাংশে সহায়তা করতে পারে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
বাস্তুশাস্ত্র মতে, এই ধরনের ছোটখাটো পরিবর্তন পড়াশোনার ফলাফলে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের কথায়, যে শিশু আগে হয়তো ৬০ শতাংশ নম্বর পেত, এই পরিবর্তনের ফলে সে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর অর্জন করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এটি কেবল বাস্তু পরামর্শদাতাদের একটি দাবি মাত্র, কোনো নিশ্চিত ফলাফল নয়।










