ভারতের ৪১তম ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, হলদিয়া বন্দরের মুকুটে জুড়ল নয়া পালক

Published:

Haldia Dock Complex

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের জন্য আরও বড় খবর। রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সকে (Haldia Dock Complex) এবার দেশের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টের তালিকায় যুক্ত করে ফেলল কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং জাহাজের কর্মীদের যাতায়াত প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং নিয়ন্ত্রিত হবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে হলদিয়া বন্দরকে অনুমোদিত ইমিগ্রেশন পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যার ফলে দেশের সমুদ্রপথে থাকা ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টের সংখ্যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১।

গুরুত্ব আরও বাড়ল হলদিয়া বন্দরের

আসলে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর। এটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বন্দর দ্বারা পরিচালিত হয়। কলকাতা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই বন্দরটি পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এই বন্দরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কার্গো, তরল পণ্য এবং কন্টেইনার পরিবহন হয়। এবার ইমিগ্রেশন সুবিধা যুক্ত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক স্তরেও হলদিয়ার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে বিদেশী জাহাজের কর্মী, আন্তর্জাতিক যাত্রী এবং অন্যান্য অনুমোদিত ব্যক্তিদের জন্য হলদিয়া বন্দরের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স আরও সুবিধা হবে। আগে আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে অন্য নির্দিষ্ট বন্দরের উপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এবার হলদিয়াতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আরও দ্রুত হবে, বন্দর ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক হবে এবং পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশী বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: লাভ হবে ব্যবসায়ী থেকে কৃষকদের, ৫৭ বছরের পুরনো ব্যবস্থায় বদল আনল RBI

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইমিগ্রেশন এন্ড ফরেইনার অ্যাক্ট ২০২৫ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টের তালিকায় ক্যাটাগরি ২ অর্থাৎ সমুদ্র বন্দর বিভাগে ৪০টি বন্দর ছিল। আর সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হল ৪১ নম্বর হলদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ)। এর মাধ্যমে হলদিয়া আনুষ্ঠানিকভাবেই দেশের আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেল।