সিপিএমের বুকস্টল মামলা খারিজ করে দিল হাইকোর্ট, তোপ দাগলেন সুজন

Published:

CPIM Bookstall

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শারদোৎসবের জায়গায় দুর্গাপুজো না লিখলে সিপিএমের বুকস্টল (CPIM Bookstall) বসাতে দেবে না রাজ্য সরকার। তবে সেই দাবি তোয়াক্কা না করে পুজো মণ্ডপগুলির পাশে স্টল বসায় বামেরা। কিন্তু একাধিক জায়গায় সেই বুকস্টলে ভাঙচুর চলে বলেই অভিযোগ। এমনকি যাদবপুরে বুকস্টল ভাঙতে বুলডোজার পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। পুলিশের অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। তবে সেই মামলা আজ খারিজ করে দিলেন বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়।

সিপিএমের বুকস্টল মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট

বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের বেঞ্চে আজ এই মামলা শুনানির জন্য ওঠে। তবে কোনও কারণ উল্লেখ না করেই সেই মামলা খারিজ করে দেন তিনি। এখনও পর্যন্ত বিচারপতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনামা হাতে আসেনি সিপিআইএমের। তবে মামলা খারিজ হতেই সুর চড়িয়েছেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “হাইকোর্টে আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম। তবে আমাদের বুকস্টলে বুলডোজার নিয়ে আক্রমণ করে। ক্ষতিপূরণের কথা বলে এসেছিলাম আমরা। ওরা বলেছে বনগাঁ নিয়ে যেহেতু ডিভিশন বেঞ্চ আগেই রায় দিয়েছে, আর এখন যেহেতু পুজো শেষ হওয়ার মুখে, তাই নতুন অর্ডার দেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “এতে বোধহয় বিজেপির নেতারা মনে করছেন যে তাঁরা জিতে গিয়েছেন। কিন্তু অ্যাডভান্স কিছু বলেনি আদালত। ক্ষতিপূরণ এখন দিল না। আমাদের লড়াই চলবে। মুখ্যমন্ত্রী যত চোখ রাঙিয়েছেন, তত জেদ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। ওরা শতখানেক বুকস্টলে হামলা করেছে। গোটা চার-পাঁচেকের বেশি ভাঙতে পারেনি। এবার বুকস্টলের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রায় দুই-আড়াইগুণ বেড়েছে বই বিক্রি। মানুষের আদালতে ওদের হার একেবারে সুনিশ্চিত হয়ে গেল।”

আরও পড়ুন: অসমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ১১০০-র বেশি বাঙালি মুসলিমের অবৈধ বাড়ি, মসজিদ

সিপিএমের অভিযোগ ছিল, কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা বুলডোজার নিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় যাদবপুরে বুকস্টল ভাঙার জন্য উপস্থিত হয়। যদিও সিএমএ নেতা-কর্মীরা ভাঙতে বাধা দেয়। এমনকি হাইকোর্টের আগের নির্দেশ সত্ত্বেও বনগাঁও এবং নৈহাটিতে স্টল বসাতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। এরকম পদক্ষেপ যাতে ভবিষ্যতে পুরসভা বা পুলিশ আধিকারিকরা না নিতে পারে, সেই আবেদনে জানানো হয় হাইকোর্টে। তবে সিপিএমকে ধাক্কা দিয়ে সেই মামলা খারিজ করে দিলেন বিচারপতি।

google button