আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রতিটি পড়ুয়ার কাছেই স্কুলজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ হল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এই দুই পরীক্ষার ফলাফলের উপর অনেকটাই নির্ভর করে পরবর্তী পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনের গতিপথ। তাই এই পরীক্ষাগুলির প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সময়সূচি, সবকিছু নিয়েই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বেশ সচেতন থাকেন। তবে এবার জনগণনার (Census) কাজের জন্য অনেকটাই পিছিয়ে যেতে চলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary Examination) পরীক্ষার সময়সূচি!
কবে হবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা?
প্রসঙ্গত, দেশে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা বা আদমশুমারি হওয়ার কথা। শেষবার ২০১১ সালে জনগণনা হয়েছিল। ২০২১ সালে পরবর্তী জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড অতিমারির কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২৭ সালে ফের দেশজুড়ে জনগণনা হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার কাজ দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার কথা, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। প্রয়োজন হলে ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত সংশোধনের কাজও চলবে। এই জনগণনার কাজেই বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যুক্ত করা হতে পারে। আর সেই কারণেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের কথা ভাবনাচিন্তা করছে সংশ্লিষ্ট পর্ষদ ও সংসদ।
আগে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা ছিল। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও মাধ্যমিকের পরেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনগণনার কাজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি বড় অংশকে নিযুক্ত করা হলে একই সময়ে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে মাধ্যমিক পরীক্ষা ২ মার্চ থেকে শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি অসিতকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, আগামী বছর ১৬ মার্চের পর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী নতুন নির্ঘণ্ট তৈরির কাজও চলছে। তবে এখনও কোনও পরীক্ষারই পরিবর্তিত সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষক মহলেও দু’ধরনের মতামত উঠে আসছে। এক পক্ষের বক্তব্য, জনগণনার কাজে যদি বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যুক্ত থাকতে হয়, তাহলে একই সময়ে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া কঠিন হতে পারে। পরীক্ষার আয়োজন, পরিদর্শন এবং অন্যান্য দায়িত্ব সামলাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়াই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে আর এক পক্ষের মতে, যেসব শিক্ষক-শিক্ষিকা জনগণনার কাজে নিযুক্ত থাকবেন না, তাঁদের দিয়েই পরীক্ষার দায়িত্ব সামলানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা উচিত।
আরও পড়ুন: রেশনে ৫০ কেজি চালের সঙ্গে ৫০০০ টাকা, দীপাবলির উপহার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে এই প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের বক্তব্য, জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজেও শিক্ষকদের একটি বড় অংশ যুক্ত থাকায় বহু স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়ারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা দফতরের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর মতে, পরীক্ষার নির্ধারিত সূচি অপরিবর্তিত রেখে জনগণনার কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা উচিত। কারণ পরীক্ষার্থীদের আগে থেকেই একটি মানসিক প্রস্তুতি থাকে। হঠাৎ পরীক্ষার রুটিন বদলে গেলে তাদের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এবার সত্যিই পরীক্ষা পিছিয়ে যায় নাকি নির্ধারিত সময়েই হয়, সেদিকেই নজর পরীক্ষার্থীদের।










