সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলার ডিএ মামলায় আবারও নাটকিয় মোড়। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় থাকা বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি ছিল। এদিন সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) মামলার কমপ্লায়েন্স শুনানিতে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনারদের বঞ্চনার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের আইনজীবীরা। শুনানিতে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, করুণা নন্দী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) এবং অন্য এক আইনজীবী এই বিষয় নিয়ে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
সুপ্রিম কোর্টে আজ ফের উঠল বাংলার ডিএ মামলা
সিনিয়র আইনজীবীদের বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী মোট ৪২ হাজার কোটি টাকার বকেয়ার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা মেটানো হয়েছে। কিন্তু গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারী ও পেনশনাররা এখনও কোনও বকেয়া পাননি বলে অভিযোগ করেন আইনজীবীরা। আইনজীবী করুণা নন্দী ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কার্যপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কমিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে ১১ বার বৈঠক করলেও রেসপন্ডেন্ট পক্ষের সঙ্গে এখনও কোনও বৈঠক করেনি।
শুনানিতে আজ মূলত গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বঞ্চনা এবং মালহোত্রা কমিটির কাজের পদ্ধতি নিয়েই আলোচনা হয়। ফলে AICPI-এর ৫৩৬ বনাম ৬০৫ সূচক সংক্রান্ত বকেয়ার হিসাবের বিতর্কটি এদিন বিস্তারিতভাবে তোলার সুযোগ হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। বিচারপতি মিশ্র গত ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পরও নভেম্বর মাস পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ কার্যকর না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আইনজীবী করুণা নন্দী বৈঠকটি দিল্লিতে করার অনুরোধ জানালেও বিচারপতি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। কলকাতাতেই বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: দিঘার সমুদ্র সৈকতে হকারদের বসায় নিষেধাজ্ঞা, আজ থেকে জারি নয়া নিয়ম
পরবর্তী শুনানি কবে?
শেষে বিচারপতি জানান, ১৪ ডিসেম্বরের বৈঠকের পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৭। ফলে DA মামলার পরবর্তী অগ্রগতির জন্য কর্মচারী ও পেনশনারদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া এবং মালহোত্রা কমিটির ভূমিকা নিয়ে এদিনের শুনানিতে আইনজীবীদের সম্মিলিত বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।










