আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: “যতই দাও ততই চাই, পোষায় আর না”- মমতা ব্যানার্জির বলা এই কথাটা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করলেও, আজ এই উক্তিটিকেই সত্য বলে প্রমাণ করছে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তারা। পুজোর (Durga Puja) আগে সরকারি আর্থিক সহায়তা নিয়ে মহিলাদের প্রতিক্রিয়া জানতে হুগলির (Hooghly) একটি সেবা সেতু শিবিরে সমীক্ষা চালান এক সাংবাদিক। সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা কারা পাচ্ছেন এবং কারা পাচ্ছেন না সেই নিয়ে মহিলাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
কী বললেন উপভোক্তারা?
ওই শিবিরে উপস্থিত অধিকাংশ মহিলাই জানান, তাঁরা নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময়ে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন। তবে এক মহিলার বক্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিনি জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মাসে ৩ হাজার টাকায় কতটা সামলানো সম্ভব? তাঁর কথায়, “আমি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছি। কিন্তু ৩ হাজার দিলে হবে? আরও বেশি দিতে হবে। পুজোয় পেনশন দিতে হবে। ৩ হাজার টাকায় কী হয়? পুজোয় জামাকাপড় কিনব, একটু বেশি করে না দিলে চলে? আমি ভীষণ খুশি সরকারের অর্থসহায়তায়। তবে আমি চাই সরকার আরও টাকা দিক।” অর্থাৎ, সরকারি সহায়তা পেয়ে খুশি হলেও উৎসবের খরচের কথা মাথায় রেখে অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ওই মহিলা।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রকল্প চালু হয়েছে ২০২৬ সালের জুন মাসে। ৩ জুন প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৮.২৫ লক্ষ মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলাদের জন্য এই আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া রয়েছে।
আরও পড়ুন: মোক্ষম চাল RBI-র, ডলারের বিপরীতে রেকর্ড উত্থান ভারতীয় রুপির, দেখুন রেট
হুগলির শিবিরে যেখানে একাংশের বক্তব্যে নিয়মিত টাকা পাওয়ার কথা উঠে এসেছে, সেখানে রাজ্যের একাধিক জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভও হয়েছে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ এবং হুগলির পোলবা-সহ বিভিন্ন জায়গায় মহিলারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও মাসের পর মাস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি।










