আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: নিম্ন থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী টাকা। মার্কিন ডলারের (Dollar) সামনে ফের শক্তি ফিরে পাচ্ছে ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)-এর একাধিক পদক্ষেপে একটু একটু করে স্বস্তি ফিরে পাচ্ছে মুদ্রাবাজার। বুধবার, ১৪ অক্টোবর সকালে ডলারের তুলনায় টাকার দাম বেড়ে ৯৪.৯২-এ পৌঁছয়। তবে দিনের শুরুতে এই উত্থান দেখা গেলেও, গোটা দিনের লেনদেনে টাকার দর ওঠানামা করেছে।
RBI-এর কোন নীতিতে ঘুরে দাঁড়াল ভারতীয় টাকা?
টাকার এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে আরবিআইয়ের সাম্প্রতিক নীতি। গত সপ্তাহে ডলারের তুলনায় টাকার দর রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তারপরেই উঠেপড়ে লাগে RBI। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তেল বিপণন সংস্থাগুলির ডলারের চাহিদা নিয়েও বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। সেই চাপ কমানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার ডেরিভেটিভ লেনদেনের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ ডলারের বেশি কেনাকাটার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ২০ শতাংশ সংরক্ষণের শর্তও দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়েছে মুদ্রাবাজারে। মঙ্গলবারও ডলারের তুলনায় টাকার দর বেড়েছিল। বুধবার সকালে সেই দর বজায় থাকে এবং একসময় ডলারের দাম ৯৪.৯২ টাকায় নেমে আসে। তবে এই উত্থানকে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে একেবারেই মনে করছেন না বাজার বিশেষজ্ঞরা। কারণ, আমদানিকারক সংস্থাগুলি ভবিষ্যতে ডলার কেনার দর আগের থেকেই নিশ্চিত করে রাখতে চাইছে। ব্যাঙ্কগুলির তরফে এই ধরনের লেনদেনে খরচ বাড়লেও ডলারের চাহিদা পুরোপুরি কমেনি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও টাকার উপর চাপ তৈরি করছে।
এর পাশাপাশি বর্তমানে সব থেকে বড় চিন্তা হলো অপরিশোধিত তেলের দাম। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের উপরে পৌঁছয়। ভারত নিজের প্রয়োজনের বড় অংশের তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানির খরচ মেটাতে আরও বেশি ডলারের প্রয়োজন হবে। এতে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে এবং ভারতীয় টাকার উপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, ডলার সূচকে সামান্য দুর্বলতা দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি।
আরও পড়ুন: ‘আপনাদের থেকে শেখা’ দেশে আন্দোলনের ঝড় তুলে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ নেহা বোরার
টাকার দর বাড়লেও শেয়ারবাজারে কিন্তু স্বস্তির ছবি দেখা যায়নি। বুধবার সকালের লেনদেনে সেনসেক্স ও নিফটি এই দুই সূচকেই পতন দেখা গিয়েছে। এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রায় ১,৩০৫ কোটি টাকার নিট বিক্রি করেছেন। ফলে মুদ্রাবাজারে টাকার সাম্প্রতিক উত্থান এবং শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতি যে ভিন্ন পথে হাঁটছে তা বলাই বাহুল্য।










