বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: 2011 সালে বাংলার মানুষের মনে ভরসা যুগিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। 34 বছরের বাম জমানার পতন ঘটিয়ে কার্যত অসাধ্য সাধন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। 2026 এ দাঁড়িয়ে 15 বছরের তৃণমূল শাসনের পতন ঘটিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বাংলায় প্রথমবারের মতো ক্ষমতা এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চ থেকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়ার আগে রাজ্যে কত টাকার ঋণ রেখে গেলেন?
কত টাকার ঋণ রেখে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
2011 সালে প্রথমবারের মতো বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বামেদের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলতে দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দ্বিতীয় দফায় 2016 তে পুনরায় বঙ্গ জয় করতেই সেই পুরনো ঋণের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মমতা। এরপর 2021 এও রাজ্যের মানুষ ভরসা করে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল। যদিও তার প্রতিদান হিসেবে খুব একটা ভাল কিছু আম জনতাকে ফিরিয়ে দিতে পারেনি তৃণমূল! হয়তো সেই অপ্রাপ্তি থেকেই তৃণমূল দুর্গের পতন ঘটেছে বাংলায়।
এখন প্রশ্ন, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বারবার বাম জামানায় নেওয়া বিপুল সংখ্যক ঋণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন তিনি যাওয়ার আগে কত টাকার ঋণ রেখে গেলেন? কয়েকটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার বাংলায় 7 লাখ 71 হাজার কোটি টাকার ঋণ রেখে গিয়েছে। আর এই বিপুল পরিমাণ ঋণের পাশাপাশি বাংলার বিজেপি সরকারের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রেখে গিয়েছে তৃণমূল। যেগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দারিদ্রতা। 2023 সালের এক তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় 11.89 শতাংশ দরিদ্র মানুষ রয়েছেন। যদিও এই হিসেব নিয়ে রয়েছে বিতর্কও।
অবশ্যই পড়ুন: UPI পেমেন্টই হল কাল! চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়, খেলা শেষ খুনিদের?
এখানেই শেষ নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশেষ করে তৃণমূল জামানায় বাংলায় কর্মসংস্থান কার্যত নেই বললেই চলে। কেরল, তামিলনাড়ু, গুজরাত থেকে শুরু করে দিল্লির মতো জায়গায় বাংলার পরিযায়ীদের সংখ্যা প্রচুর। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও বাংলা থেকে কাজের জন্য যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা বেড়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন সরকারকে বাংলায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য যাবতীয় কাজে মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলা থেকে যেভাবে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে চলে গিয়েছিলেন, সেই সব বিনিয়োগকারীদের বাংলায় শিল্প কারখানা নির্মাণের জন্য মনোযোগী করে তুলতে হবে। যা আদতেই বড় চ্যালেঞ্জ!










