SIR-এ বড় অসঙ্গতি! ৯১% ভোটারের নাম ফেরাল ট্রাইব্যুনাল

Published:

SIR Voter List

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের খবরে শিরোনামে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (West Bengal SIR)। জানা গিয়েছে আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম নিয়ে এবার মারাত্মক তথ্য ফাঁস করল নির্বাচন কমিশন। ট্রাইব্যুনালে (SIR tribunal data) নাকি এবার ভোটার তালিকায় (SIR Voter List) ৯১ শতাংশ নাম ফিরে এসেছে। যদিও সেই নথিতে এবার অসঙ্গতি দেখা গেল, অযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে দায়ের করা আপিলের সংখ্যা বেশি দেখানো হল। আর তাই সেই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

ট্রাইব্যুনালে ফিরে এল ৯১% নাম

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় যখন SIR হয়েছিল সেই সময় প্রচুর মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। তাই সম্প্রতি দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজকর্ম নিয়ে একটি আরটিআই আবেদন করেছিলেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই প্রশ্নের জবাবে কমিশনের দেওয়া তথ্য জানিয়েছে যে, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে ৮২,৭৮২টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের ৯১.১৩ শতাংশ অর্থাৎ ৭৫,৪৪৩ জনের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এবং মাত্র ৮.৮৬ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এই তথ্য প্রকাশে আসতেই তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অতিরিক্ত আবেদনের কারণ ব্যাখ্যার দাবি সাংসদের

জানা গিয়েছে, RTI এর পেশ করা তথ্যে সবচেয়ে বড় যে অসঙ্গতি উঠে এসেছিল , তা হল বিচার প্রক্রিয়ায় অযোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে দায়ের করা আপিলের সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ রাজ্যে ২৭,২৮,৫০০ জন ভোটারকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মোট আপিল জমা পড়েছিল ৩৮,১০,৬২০টি, সেক্ষেত্রে ফারাক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০,৮২,১২০টি আবেদনের। আর এই নিয়ে সাংসদ ইশা খান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন যে এগুলি প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেই চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তাই অবিলম্বে এই ১০ লাখেরও বেশি অতিরিক্ত আবেদনের কারণ ব্যাখ্যা করা উচিত।

আরও পড়ুন: নদিয়ার চাপড়ায় ভেড়াকে ধর্ষণ বৃদ্ধর, CCTV ফুটেজ দেখে গ্রেফতার এলেম মোল্লা

দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে, “ ৯১ শতাংশের বেশি নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে মানেই প্রমাণিত হয়েছে যে প্রাথমিক পর্যায়ে ভুয়ো বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিপুল সংখ্যক বৈধ নাগরিকের নাম বাতিল করা হয়েছিল। আর এই ভুলের জন্য আজও বহু মানুষ আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আত্মঘাতী হয়েছেন কত লোক, এমনকি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে অনেককে। তাই ভোটার তালিকা হতে হবে স্বচ্ছ যাতে কোনো প্রকৃত নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”