কুর্সিতে বসেই অ্যাকশনে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়! নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা

Published:

Jagannath Chattopadhyay

অনন্যা সরকার, কলকাতা: দীর্ঘ গড়মসির পর অবশেষে বুধবার (১০ জুন) মন্ত্রীসভার দপ্তর বন্টন সম্পূর্ণ হয়েছে। গত ৯ মে সরকারের শপথ গ্রহণের পর জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay) শংকর ঘোষ – দুই বিধায়ক সহ বেশ কয়েকজন বিকাশ ভবনে বৈঠক করেন। মনে করা হচ্ছিল এই দুজনকে স্কুল ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে এখন ঠিক হয়েছে উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় একাই পালন করবেন। এই দিনই বিকাশ ভবনে নিজ কক্ষের চেয়ারে বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিউড়ির বিধায়ক। তিনি বলেন, এরাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করে উৎকর্ষতার শিখরে পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য। এছাড়া এসএসসি (SSC) সিএসসি (CSC) ও পিএসসির (PSC)-এর মতো নিয়োগের পরীক্ষাগুলির নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে বলে আশ্বাসও দেন উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী।

শিক্ষা দপ্তরে স্বচ্ছতা আনতে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রীর নয়া উদ্যোগ 

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রায় পাঁচ দশক পর বাঙালির কাছে সুযোগ এসেছে। এখন রাজ্যের ডবল ইঞ্জিনের সরকার। তাই জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে পাঠক্রম পরিচালনা করা হবে। রাষ্ট্রপতি ভাবধারার সমর্থনে সবসময় কেন্দ্রের সাথে রাজ্য  হাতে হাত ধরে কাজ করবে। পূর্বতন বাম ও তৃণমূলের সরকারকে কটাক্ষ করে উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারগুলি কেবল কেন্দ্রের সাথে লড়াই করাকেই সংস্কৃতি বানিয়ে ফেলেছিল। তবে এখন নতুন বিজেপি সরকারের কাজ হবে রাষ্ট্রবাদে নিহিত দেশের সাথে সমন্বিত একটি স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। উচ্চ মানের শিক্ষা ও উৎকর্ষতায় বাঙ্গালির সেই হারিয়ে যাওয়া গৌরব আবার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হবে। 

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগের সুরে বলেন, বাম আমলে ‘ মধ্যমেধা’-এর চাষ হয়েছে আর তৃণমূলের সরকার রাজ্যকে মেধাহীনতার দিকে নিয়ে গেছে, তাই মানুষ এরাজ্যে বিজেপি-কে নিয়ে এসেছে। প্রথম দিন কাজে এসেই উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নতুন সরকার নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার সাথে প্রতিবছর পিএসি, এসএসসি বা সিএসসি-এর মতো পরীক্ষাগুলি পরিচালনা করবে। টাকার বিনিময়ে চাকরির দেওয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ড এবার থেকে বন্ধ।

আরও পড়ুনঃ এক রাস্তায় জুড়বে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গ, তৈরি হবে দার্জিলিং থেকে গঙ্গাসাগরে নতুন হাইওয়ে

সরকার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাধীকার বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলেও এদিন জানান জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক নয়, একাধিক রকমের দুর্নীতি হয়েছে। সেসব পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং কর্মীরা এবার থেকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারবেন।