কোন আইনে মসজিদে লাউডস্পিকার সরানোর নির্দেশ? হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ কল্যাণের

Published:

Kalyan Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরানো নিয়ে এ বার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বিস্ফোরক সওয়াল করলেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। রাজ্য সরকারের ‘নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় তাঁর প্রশ্ন মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরানোর (Mosque Mic Removal Order) নির্দেশ কোন আইনে লেখা রয়েছে? আর এই নিয়ে শুরু হয়েছে মহা শোরগোল। সোমবার মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই মামলাটি ফের প্রকাশ্যে আসায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

কী বলছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

রাজ্য জুড়ে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরানো নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এমতাবস্থায়, মাইক খোলার নির্দেশের আইনি ভিত্তি কী, কোন আইনে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই প্রশ্ন তুলে আজ, সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনও লিখিত সরকারি নির্দেশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার এখন শুধু মৌখিক নির্দেশে কাজ করে।

লিখিত সরকারি নির্দেশের অস্তিত্বকে নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এদিন আবেদনকারী দানিশ ফারুকি মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী বুধবার শুনানি সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে মামলার কপি ও নোটিস পৌঁছে দিতে হবে। ফলে এ দিন মসজিদের লাউড স্পিকার সরানো নিয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। তবে মাইক খোলার নির্দেশের আইনি ভিত্তি, লিখিত সরকারি নির্দেশের অস্তিত্বকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এদিকে মসজিদের লাউডস্পিকার জোর করে খুলে ফেলা হচ্ছে, বিরোধীদের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আগেই উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন: হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, চাকরি-১০ লক্ষর আর্থিক সহায়তার ঘোষণা

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনাস্থলকে নিশানা করা হয়নি। হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ কার্যকর করতেই রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। রাজ্যের ৩৪টি পুলিশ জেলা জুড়েই চলছে এই বিশেষ অভিযান। সেই অভিযানে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির থেকেও নিয়ম মেনে লাউডস্পিকার খুলেছে বলে পুলিশ দাবি করছে।