এই চার নথি ছাড়া মিলবে না কৃষক বন্ধুর টাকা! নির্দেশিকা রাজ্যের

Published:

Krishak Bandhu Scheme

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চালু হওয়া কোনো প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। তবে, এই প্রকল্পগুলির সঙ্গে জড়িত দুর্নীতি নিরসনে নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তার মধ্যে অন্যতম হল বাংলার চাষীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, কৃষকবন্ধু (Krishak Bandhu Scheme)। বর্তমানে রাজ্য কৃষি দফতরের তরফে নতুন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অধীনে সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা নির্ধারণ, তথ্য যাচাই এবং পুনঃবৈধকরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধাগুলি কেবল প্রকৃত এবং যোগ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কী কী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে, আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

নতুন করে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের যাচাইকরণের জন্য কী কী নথি প্রয়োজন?

কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে যে, কৃষকবন্ধুর আওতাভুক্ত যেসব সুবিধাভোগীরা ইতিমধ্যে নির্ধারিত ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাদের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তথ্য যাচাইয়ের পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার দিকে এগোনো হবে। তবে, যেসব উপভোক্তা এখনও ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁরা যদি নিজেদের এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য মনে করেন, তাহলে তাঁরাও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ফর্ম জমা দিতে পারবেন। তবে শুধু ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই হবে না, ফর্মের সাথে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর, অ্যাকাউন্টের সাথে লিংক করা আধার নম্বর এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর মোবাইল নম্বর ও আধারের বিবরণও জমা দিতে হবে। এর সাথে আবেদনকারীর জমির পরিমাণ এবং জমি সংক্রান্ত নথিপত্রের প্রতিলিপিও জমা দিতে হবে।

প্রকল্পের সুবিধা যাতে কেবল যোগ্য কৃষকদের কাছেই পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগীদের থেকে তথ্য সংগ্রহ ও নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে, বাস্তবের সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হচ্ছে, এমনকি দরকারে স্থানীয়ভাবে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করেও তথ্য মেলানোর কাজ চলছে। কৃষি বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে, যেসব উপভোক্তার মোবাইল নম্বর ইতিমধ্যেই ‘কৃষক বন্ধু’ ডেটাবেসে ঠিকভাবে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরা ওই নির্দিষ্ট নম্বর থেকে এসএমএস-এর মাধ্যমেও ফর্ম ফিলাপ ও নথিপত্র জমা দিতে পারবেন। 

আরও পড়ুন: পুজোর মুখে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, করুণাময়ীতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শিক্ষকদের

কৃষি দফতর জানিয়েছে, কোনো প্রকৃত ও যোগ্য কৃষক সময়মতো ফর্ম বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে না পারার কারণে ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া থেকে যাতে বাদ না পড়েন, তার জন্য সরকার ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা আগস্ট মাসের পরেও বাড়িয়েছে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। তাই কৃষক বন্ধুর সুবিধা পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তারা যেন সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি অধিকর্তার দপ্তরে সম্পূর্ণ ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন।

google button