প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্ষার মধ্যেই ফের কলকাতায় জাঁকিয়ে বসেছে ডেঙ্গুর (Kolkata Dengue) আতঙ্ক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ (Kolkata dengue outbreak)। এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পাশাপাশি, ৮০০-রও বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। আর সেই নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)।
আতঙ্কিত চিকিৎসকেরা
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৮৭, আর সেখানে দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালের একই সময়ে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৭-এ অর্থাৎ এবার মাত্র ১৫ শতাংশ কমেছে ডেঙ্গি আক্রান্তের হার। গতকাল প্রকাশিত একটি স্বাস্থ্য-ঝুঁকি সূচকে দেখা গিয়েছে কলকাতার ডেঙ্গি ঝুঁকির মাত্রা ‘মাঝারি’। উল্টে এই একই সূচকে শহরে ডেঙ্গির চেয়ে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি আরও বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও আতঙ্কিত চিকিৎসকেরা।
মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের
জানা গিয়েছে, এ বছর ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও, সরকারি ‘ডেথ রিভিউ কমিটি’র পর্যালোচনায় ৭ জনের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ডেঙ্গিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৩ জন ডেঙ্গি পজিটিভ হলেও অন্য শারীরিক জটিলতা থাকায় তাদের মৃত্যু হয়েছিল। প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। গত এক সপ্তাহেই ডেঙ্গির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৮০০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর তাই এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিশেষ বার্তা দিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অব্যবহৃত ‘পদ্ম পুল’ বা কৃত্রিম জলাশয়গুলি নিয়ে।
আরও পড়ুন: “আমার নামে টাকা চাইলে ছবি তুলুন..” তোলাবাজি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি রত্না দেবনাথের
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কৃত্রিম জলাশয়গুলিতেই মশার লার্ভা বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। অবস্থা এমন যে সেখানে কোনওদিন পদ্ম ফুটতে বা মাছ ভাসতে দেখা যায় না, অথচ জল জমে ডেঙ্গির প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। অবিলম্বে এই ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে KMC-র মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের আশ্বাস, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি, তবে সাধারণ মানুষকে আরও অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। অন্যদিকে জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।










