“৬-৭টা বাচ্চার খোঁজ নেই, এবার ভোট চাইতে আসুক!” সন্তোষপুর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষোভ স্থানীয়দের

Published:

Santoshpur Fire Incident

সৌভিক মুখার্জী, সন্তোষপুর: ভোটের মুখেই সন্তোষপুরে ফের অগ্নিকাণ্ড (Santoshpur Fire Incident)। আজ সবে দুপুর গড়িয়েছিল। কেউ দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন, কেউ বা সবে ভাত বেড়ে খেতে বসবেন। ঠিক তখনই যেন সব উলটপালট হয়ে গেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার আক্রা-সন্তোষপুরে ১৬ বিঘে বস্তিতে লাগা সেই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ছায় হয়ে গেল কয়েকশো মানুষের স্বপ্ন। চোখের নিমেষেই ঝুপড়িবাসীরা নিঃস্ব হয়ে এখন কার্যত দিশেহারা।

মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু শেষ

শনিবার ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১:৪০। আচমকাই আগুন লাগে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিতে। বুঝে ওঠার আগেই গোটা বস্তি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। চারপাশের বাসিন্দারা কোনও রকমে শুধুমাত্র নিজের প্রাণটুকু নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে জামাকাপড়, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র, নথিপত্র, বাসনপত্র যা ছিল সব আগুনের গ্রাসে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সবথেকে মর্মান্তিক দিক হল বেশ কিছু শিশুর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগুনের আতঙ্ক এতটাই বেড়েছিল যে, ছোটাছুটির মধ্যে ছয় থেকে সাতজন শিশুর আর খোঁজ মিলছে না। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আগুন দেখে আতঙ্কে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল এক শিশু। তাঁরও হদিশ মিলছে না। এছাড়াও ট্রেনের ওভারহেডের তার ছিঁড়ে পড়ে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।

তবে আগুন নেভাতে দমকলের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দমকলকে খবর দেওয়া হলেও তাঁরা সময় মতো সেখানে পৌঁছয়নি। এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন যে, দমকলের দুটি ইঞ্জিন আসলো। একটুও জল ছিল না। ওটা খালি করে নিয়ে চলে এসেছে।

আরও পড়ুন: ভরদুপুরে দাউদাউ করে জ্বলছে সন্তোষপুরের ৫০-৬০ টি ঝুপড়ি, শিয়ালদা লাইনে বন্ধ ট্রেন

এদিকে সামনেই ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বাংলায়। অথচ তার আগে পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে ভোটার কার্ড সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘর হারানো মানুষের ক্ষোভ এখন রাজনৈতিক দলগুলোর উপরেই। বিশেষ করে নেতাদের উপরে। এক বৃদ্ধের কথায়, “ভোটের সময় হলেই সবাই ভোট চাইতে আসবে। আমাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কেউ নেই। এবার ভোট চাইতে আসুক। আমাদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সব পুরো শেষ। না মোদী, না দিদি, কাউকেই আর চাই না আমরা…।”