প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অপেক্ষার অবসান! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভবানীপুর নির্বাচনী মামলা অবশেষে গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। জানা গিয়েছে, বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের নির্দেশ দিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রের ভিতর ও বাইরের সিসি ক্যামেরার তথ্য, EVM, ভিভিপ্যাট, কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিটের তথ্য কোনও ভাবে যাতে নষ্ট না হয়। এছাড়াও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সহ সব পক্ষকে মামলার নথি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেলা ২ টোর সময়ে ফের এই মামলার এক দফা শুনানি হবে।
ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ মমতার
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপির তরফে ময়দানে নেমেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ভোটের ফল বেরোলে দেখা যায়, শুভেন্দুর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা। এদিকে মমতার অভিযোগ বিজেপির তরফে ভোটে কারচুপি হয়েছে। তাই সেই ভবানীপুরের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত ১৬ জুন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা। দায়ের করেছিলেন ইলেকশন পিটিশন। এবার সেই মামলায় আদালত জানাল, ভবানীপুর কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ, EVM, VVPAT-সব তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কিছু মোছা যাবে না।
মামলা সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশ বিচারপতির
উল্লেখ্য, ২০২১ সালেও বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। সেই সময়ও একই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এখনও সেই মামলা বিচারাধীন। অন্যদিকে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের মামলায় কোর্টের আরও নির্দেশ, মামলায় যুক্ত বিবাদী পক্ষদের মামলার নোটিস পাঠাবে হাই কোর্টের অরিজিনাল সাইডের রেজিস্ট্রার। কারণ, আইন অনুযায়ী ইলেকশন পিটিশনের ক্ষেত্রে মামলায় সংযুক্ত অপরপক্ষকে নোটিশ জারি করতে হবে। এবং পরবর্তী শুনানি দিন সংযুক্ত সকল পক্ষ হাজির হলে তবেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন বিচারপতি। এবং পরবর্তী শুনানির দিন কেউ হাজির না-হলে তখন আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ৷
আরও পড়ুন: আগামী ১৫ দিন বিশেষ কর্মসূচি! প্রত্যেকটি স্কুলে নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
এর আগে গত ১৪ মে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেটি ছিল ভোট-পরবর্তী অশান্তির মামলা। সেখানে আইনজীবীর বেশে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সেই বার আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। এমনকি ‘চোর’ স্লোগানও শুনতে হয়েছিল। যা নিয়ে তিনি প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন তিনি। এখন দেখার ভবানীপুরের নির্বাচনী মামলার জল কোন দিকে মোড় নেয়।










