ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আসার আগেই ভাগীরথীর তাণ্ডব! শান্তিপুরে তলিয়ে গেল ৮টি বসতভিটে

Published:

Shantipur Ganga Erosion

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গভীর নিম্নচাপের জেরে দিনরাত হয়েই চলেছে বৃষ্টি, আর এই অবস্থায় গঙ্গা ভাঙনের কবলে পড়ল নদিয়ার শান্তিপুর (Shantipur Ganga Erosion) বিধানসভার অন্তর্গত শ্রীরামপুর গ্রাম। ইতিমধ্যেই ভাগীরথী নদীর ভয়ংকর স্রোতের তাণ্ডবে পরপর ৮টি বসতভিটে ভেঙে গিয়েছে। এইভাবে নিজেদের চোখের সামনে ভিটেমাটি নদীগর্ভে (Nadia Ganga Erosion) চলে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

ঠিক কী ঘটেছিল?

একদিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রমাদ গুনছে দেশবাসী। ওদিকে নিম্নচাপের কারণে দিনভর বৃষ্টির জেরে রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা রাজ্যবাসীর। এই অবস্থায় রাতে আচমকাই ভাগীরথী ভাঙনের কবলে নদিয়ার শান্তিপুর বিধানসভার গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর গ্রাম। বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, অনেকেই প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ঘরের আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করার সময়টুকুও পায়নি। সকলের চোখের সামনে একে একে গঙ্গায় তলিয়ে যেতে থাকে কাঁচা ঘরবাড়ি, গোলা, গাছপালা সহ বহু সামগ্রী।

রাস্তাতেও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে

স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে ভাঙনের সময় এক গর্ভবতী মহিলাকে কোনোরকমে ঘর থেকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছিল। আর তাঁকে বাইরে বের করার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাকি সেই ঘরটিও গঙ্গার গর্ভে চলে যায়। এদিকে গঙ্গা ভাঙনের জেরে বসতবাড়ির পাশাপাশি শ্রীরামপুরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেও বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যদি রাস্তাগুলি ধসে যায়, তাহলে গঙ্গার জল হু হু করে মূল লোকালয়ে ঢুকে পড়বে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে।

আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় বিনিয়োগ, জুপিটারকে ২৫৬ একর জমি দিল রাজ্য

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই বর্ষার এই সময়ে শান্তিপুরের হরিপুর, বেলঘড়িয়া ও গয়েশপুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন অংশ ভাঙনের কবলে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে নদীর পাড় বাঁধানোর দাবি জানালেও বিগত সরকার কোনও পদক্ষেপই নেয়নি। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে পূর্বতন সরকারকে দোষ দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক স্বপন কুমার দাস। আশা করা যাচ্ছে এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের দৌলতে খুব শীঘ্রই স্থায়ী নদীবাঁধ করা হবে।