পুরুলিয়ায় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় বিনিয়োগ, জুপিটারকে ২৫৬ একর জমি দিল রাজ্য

Published:

Purulia

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের শিল্প ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। পুরুলিয়ায় (Purulia) জুপিটার ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেডকে (Jupiter Defence Private Ltd) শিল্পের জন্য জমি দেওয়া হল প্রায় ২৫৬ একর। রাজ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পের (West Bengal Defence Factory) পরিকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

২৫৬ একর জমি দিল রাজ্য সরকার

গত কয়েক বছর ধরেই, দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোই সেই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার রদবদল হতেই বাংলায় শিল্প ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক নয়া পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। জানা গিয়েছে, কলকাতার বাইরে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য নজরে আনা হয়েছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরকে। তাই এবার সেখানে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়তে জুপিটার ডিফেন্সকে প্রায় ২৫৬ একর জমি দিল রাজ্য সরকার।

রঘুনাথপুরে প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পদক্ষেপ

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার, কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ড ফর ইন্ডাস্ট্রি’ অনুষ্ঠানে জুপিটার ডিফেন্সকে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ বিভাগের মাননীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তাপস রায় এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। সরকারি সমীক্ষা অনুসারে, রঘুনাথপুরের শিল্প পার্কটি প্রায় ১,৯২৪ একর জমির উপরে তৈরি হচ্ছে। এখানকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই ভালো যে এই এলাকা বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য যথেষ্ট উপযোগী।

আরও পড়ুন: মধ্যরাতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, রাজ্যের মন্ত্রীর মেয়ে সহ মৃত ৪

জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুরে শিল্প পরিকাঠামো ব্যবস্থায় যুক্ত হতে চলেছে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা। যার দায়িত্বে থাকবে জুপিটার ডিফেন্স। এটি জুপিটার ওয়াগনস গোষ্ঠীরই একটি অংশ, এত দিন মূলত রেলওয়ে সংক্রান্ত উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। বর্তমানে এই গোষ্ঠী প্রতিরক্ষা-সহ আরও কয়েকটি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবসা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে এই প্রকল্পের হাত ধরে পুরুলিয়ায় শুধুমাত্র একটি বড় কারখানা তৈরির সম্ভাবনাই নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী ফেজ-২ শিল্প পার্কে তৈরি হবে এই প্রকল্পে। এখন দেখার রাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্পে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়।