বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শহর কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাত দখল করে কেউ বসবাস করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। আর ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ফুটপাতে এক শিশুর খাওয়ার দুধ গরম করতে দেখে রীতিমতো তাঁর ঠাকুমাকে ধমক দেন মন্ত্রী। আর তারপর থেকেই বেড়েছে সমালোচনা। কীভাবে একটা দুধের শিশুর সাথে এমন অবিচার করতে পারেন সেই প্রশ্নই তুলেছেন বিরোধীরা (Agnimitra Paul Park Street controversy)। আগেই এ প্রসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মুখ খুলেছিলেন কুণাল ঘোষ। এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
দুধের শিশুর দায়িত্ব নিতে চান মমতা
দিন কয়েক আগেই কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে জরুরী অভিযান চালান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। সেখানে পৌঁছে দুধের শিশু সহ একটি পরিবারকে ফুটপাতের পাশে বসবাস করতে দেখে একেবারে চটে যান তিনি। পাছে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে তার আগেই ওই পরিবারটিকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সেই সময় অবশ্য বাচ্চাটির জন্য দুধ গরম করছিলেন তাঁর ঠাকুমা। তৎক্ষণাৎ তা বন্ধ করে সেখান থেকে উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বৃদ্ধা মহিলাকে মন্ত্রী প্রশ্ন করছেন, তাঁর বাড়ি কোথায়? তিনি এখানে কেন এসেছেন? কেন ফুটপাতে থাকছেন? আর এইসব ঘটনা নিয়েই অগ্নিমিত্রা পালকে একযোগে নিশানা করেন বিরোধীরা। কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে নওশাদ সিদ্দিকীদের প্রশ্ন একটাই, “বাচ্চার দুধ গরম করার সময়টুকুও দিতে পারলেন না?” এবার একই ঘটনায় মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়কের আপ্ত সহায়ককে থেঁতলে খুন
সোমবার নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে লাইভ করে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। গোটা ঘটনাকে সামনে রেখে এদিন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটা ছোট্ট দুধের শিশুর খাবার তৈরি করছিল, দারিদ্রতাকে ঘৃণা করবেন না দয়া করে। যে মা রাস্তার পাশে বাচ্চার দুধ ফোটাচ্ছে, সে কতটা অসহায়! সেটা ফেলে দিতে খারাপ লাগলো না? মাথায় রাখবেন, মায়ের অভিশাপ, বড় অভিশাপ।” এদিন অগ্নিমিত্রা পালকে নিশানা করার সাথে সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, তিনি ফুটপাতে থাকা ওই পরিবারের দায়িত্ব নিতে পুরোপুরি তৈরি। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, “আমি ওই পরিবারের দায়িত্ব নিতে রাজি। ওনারা রাজি হলে আমি কোনও কর্মীর বাড়িতেই তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব।”










