অন্নপূর্ণা যোজনা নয়, নির্যাতনে মৃত্যু অনিতার! মালদার গৃহবধূর আত্মহত্যার কাণ্ডে নয়া মোড়

Published:

Malda

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তিন মাস ধরে মিলছে না অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা। তা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মঘাতী হন মালদার (Malda) এক গৃহবধূ। এমনটাই দাবি ছিল তাঁর আত্মীয় থেকে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যদের। তবে সেই অন্নপূর্ণা কাণ্ডে আত্মঘাতী হওয়া মহিলার স্বামীকে এবার গ্রেফতার করল গাজোল থানার পুলিশ। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন থেকে শুরু করে অন্যান্য একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

সত্যিই কি অন্নপূর্ণা যোজনা না পেয়ে আত্মহত্যা?

প্রসঙ্গত, শনিবার মালদার গাজোল থানার কর্কচ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাচাহার গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন অনিতা খাতুন। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। তবে সেই আত্মহত্যার ঘটনার পর তাঁর এক দেওর এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মোশারেকুল আনোয়ার অভিযোগ করেছিলেন, ওই মহিলা বিগত তিন মাস ধরে অন্নপূর্ণা যোজনা পাচ্ছিলেন না। তাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করেই আত্মঘাতী হয়েছেন। এমনকি আশেপাশের মহিলারা টাকা পেলেও তিনি টাকা পাননি।

তাঁদের আরও অভিযোগ, অন্নপূর্ণার ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন তাঁর স্বামী ইনজামামুল হক। আবেদনপত্রে ভুলভাল করার দোষারোপ করেই ঝগড়া করে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই গৃহবধূ। তবে তাঁর দেহ কবরস্থ করার পরপরই রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং মৃত ওই মহিলার স্বামীকে গ্রেফতারের কথা জানান। এমনকি তিনি আরও জানিয়েছেন, মৃতা গৃহবধূর এক ভাই আনিসুল আলমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই ইনজামামুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাঁকে মালদা আদালতে পেশ করা হলে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা থেকে শুরু করে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: এই দিন পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ, নির্দেশ হাইকোর্টের

পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ইনজামামুল তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন করত। এমনকি ঘটনার দিন ধৃত ওই ব্যক্তি অনিতার বাবার বাড়িতে লোকজনদের ফোন করে আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিলেন। আদতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়াকে কেন্দ্র করে আত্মঘাতী হননি তিনি। যদিও মৃতার শ্বশুরবাড়ির কেউ এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি। তবে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এমনকি শ্বশুরবাড়ির আর কেউ এই ঘটনার পিছনে যুক্ত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।