এবার বাংলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে ‘অর্জুন বাহিনী’, কী কাজ করবে? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্য রাজ্যের প্রতি আর নির্ভর নয়, এবার বাংলায় গড়ে উঠবে নিজস্ব বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রবিবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন যে বাংলায় আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার, তাই বিপর্যয় মোকাবিলা (Disaster Management Group) করতে অর্জুন বাহিনী (Arjun Bahini) তৈরি করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে আগামী মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে এই বাহিনী কাজ করতে শুরু করবে। ক্ষমতা দখল করতেই বিজেপির এই নয়া চমক অবাক বঙ্গবাসী।

বাংলায় তৈরি হবে বিপর্যয় মোকাবিলা দল

তারাতলার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর থেকেই বিগত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। আর এবার সেই নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, গতকাল, রবিবার গার্ডেনরিচে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে NDRF-এর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা দল ‘অর্জুন বাহিনী’ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই এই বাহিনীর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কী জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী?

অনুষ্ঠানের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, “আমাদের রাজ্যে এত বছর ধরে এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে যে এখানে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দরকার। সে কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। তারাতলার দুর্ঘটনার পরে অগ্নিবীরদের ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে’ নেওয়ার কথা হয়েছে। তবে এক্ষুনি যেহেতু পাচ্ছিনা, তাই সৈনিক বোর্ড থেকে অর্জুন বাহিনী তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০ শতাংশ অগ্নিবীরদের প্রেফারেন্স দেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরে এর সূচনা আমি করব।”

আশা বাড়ছে ‘অর্জুন বাহিনী’ নিয়ে

জানা গিয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ও দ্রুত উদ্ধারকাজের ক্ষেত্রে অর্জুন বাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত হবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে প্রশাসনিক মহল বেশ আশা রাখছে। তাঁদের মতে, ‘অর্জুন বাহিনী’ কার্যকর হলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, বড় ভবন বা পরিকাঠামো দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে রাজ্যের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়বে। তখন জরুরি মুহূর্তে NDRF এর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়বে না। উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত গতিতে এগোবে, এবং দুর্ঘটনার সময় অনেক সাধারণ মানুষকে মৃত্যু পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে না সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ের চলন্ত টয় ট্রেনে এবার শেখানো হবে AI Coding, নতুন উদ্যোগ DHR-র

প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে পড়েছিল। আর তাতেই উঠে আসে পূর্বতন সরকারের একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ। সেদিন এনডিআরএফ, ভারতীয় সেনা, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, পুলিশ এবং দমকল বাহিনী যৌথভাবে এই উদ্ধারকাজ চালায়। ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি ও গ্যাস কাটার ব্যবহার করে লোহার জট ও ভারী কংক্রিট সরানোর কাজ করা হয়। তাই এই কাজ আরও দ্রুত করতে এই অত্যাধুনিক বাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন দেখার তারাতলার ঘটনার পর এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয়।