অনন্যা সরকার, হাওড়া: নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটের লাইসেন্স ফি এখনও জমা পড়েনি, তাই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল হাওড়া জেলা পরিষদ। আজ, সোমবার থেকেই হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির অধীনস্থ বাউড়িয়া-বজবজ এবং গাদিয়াড়া-নূরপুর-জিওনখালি ফেরিঘাট (Ferry Terminals) বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের তরফে জানানো হয়েছে যে, সোমবারের মধ্যে ফেরিঘাটগুলো বন্ধ না হলে আগামীকাল, অর্থাৎ মঙ্গলবারই দুটি ঘাট অধিগ্রহণ করা হবে।
হাওড়ায় জলপথের দুই ফেরিঘাট বন্ধ হল
হাওড়ার নদীপথে যাত্রীদের চলাচল করার জন্য যেসমস্ত ফেরিঘাটগুলি রয়েছে, প্রত্যেকটিকেই প্রতি মাসে জেলা পরিষদকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের লাইসেন্স ফি জমা দিতে হয়। তবে গত ৩ আগস্ট হাওড়া জেলা পরিষদ ৫টি ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি নোটিস পাঠিয়ে জানিয়ে যে, তাদের কাছে প্রায় ২ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি বকেয়া রয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির এই দুটি ঘাটেরই বকেয়া লাইসেন্স ফি-এর পরিমাণ যথাক্রমে ২৫ লক্ষ ১৬ হাজার ১৬০ টাকা এবং ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ৯১৬ টাকা অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৩৩ লক্ষ টাকা। এই বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য জেলা পরিষদ ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল।
হাওড়া জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি তুষার ঘোষ জানিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স ফি জমা না দেওয়া সংস্থাগুলিকে অধিগ্রহণ করার অধিকার রয়েছে জেলা পরিষদের কাছে। হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেটিভ সোসাইট’ বকেয়া লাইসেন্স ফি পরিশোধের বিষয়ে এখনও কিছুই জানায়নি। পরিষদের তরফে ১৫ দিনেরও বেশি সময় অপেক্ষা করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বার নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে যে ঘাটগুলির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালন নিয়ে দড়ি টানাটানি, হাইকোর্টে দুই তৃণমূল, আর্জি মানলেন বিচারপতি
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির আর্থিক সংকট নতুন কোনো ঘটনা নয়। পূর্বতন সরকারের আমলেও এই সমিতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চুরির নানা অভিযোগ ওঠে। এই সংস্থায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২০০-রও বেশি কর্মচারী রয়েছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সমবায় দপ্তর এই কো-অপারেটিভ সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের ঘোষণা করার কয়েকদিনের মধ্যেই এবার জেলা পরিষদের এই নোটিশটি এল।
আরও পড়ুন: “আরও ৫০ লক্ষ মহিলা পাবে অন্নপূর্ণা যোজনা” বড় ঘোষণা শমীক ভট্টাচার্যের
এদিকে, লাইসেন্স ফি বাকি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির পক্ষ থেকে দুলাল ভট্টাচার্য জানান যে, গত দু’মাস ধরে তাদের কোষাগারে কোনো অর্থ জমা পড়েনি। আর্থিক অনটনের কারণে লঞ্চ ও জেটি মেরামত করাও সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ৩৩ লক্ষ টাকা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, আগে যেমন মাসে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হত, তারা সেই হারেই টাকা জমা দিতে চান। জেলা পরিষদ যদি সেই ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে তাদের পক্ষে সুবিধা হয়।










