প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পাহাড়বাসীদের জন্য এবার বড় খবর, জানা গিয়েছে, দার্জিলিং-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে (Artificial Intelligence) সামনে রেখে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (Darjeeling Himalayan Railway) বা DHR। ঐতিহ্যবাহী স্টেশনগুলির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং-দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে যাত্রা শুরু করতে চলেছে ‘এআই কোডিং এক্সপ্রেস’ (AI Coding Toy Train)। যেখানে চলন্ত টয় ট্রেনের কামরায় বসে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে কোডিং ও কম্পিউটেশনাল স্কিলের বিশেষ ক্লাসে। আর এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক উত্তেজনার ছড়িয়েছে পাহাড় বাসীদের মনে।
চলন্ত ট্রেনে থাকবে ডিজিটাল শিক্ষার ব্যবস্থা
DHR বা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, শতাব্দী-প্রাচীন এই টয় ট্রেন আসলে রেল-ঐতিহ্যের একটা অংশ। তাই এই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতেই বর্তমান প্রজন্মের জন্য ট্রেনযাত্রার মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষার ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। জানা গিয়েছে ট্রেনের ভিতরেই চলবে কোডিং সেশন। পাহাড়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ITI- মিলিয়ে ৯০ জন পড়ুয়া সেখানে থাকবেন। এছাড়াও ওই যাত্রার পাশাপাশি আগামী ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং স্টেশনে আয়োজিত হতে চলেছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। সেখানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিল্পকলা, আলোকচিত্র ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রতিযোগিতা হবে।
দুদিন থাকবে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, “পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ডিজিটাল বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত করতে এটি এক অন্যতম উদ্যোগ। এআই কোডিং এক্সপ্রেসের মাধ্যমে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির হাতিয়ার তুলে দিতে চাই। যেন ওরা মনোরম পরিবেশে ভবিষ্যতের ভাষা-কোডিং ও কৃত্রিম ‘এআই কোডিং এক্সপ্রেস’ বুদ্ধিমত্তা শিখতে পারে।” জানা গিয়েছে ওই দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে থাকবে সঙ্গীত ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রদর্শন। দেখানো হবে দার্জিলিং স্টেশন নিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি। বলা হয়েছে ‘ঘুম শীতকালীন উৎসব ২০২৬’-এর সময়েও ‘এআই কোডিং’ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি নেই মহুয়া মৈত্রর, মামলা গ্রহণ করলেন না প্রধান বিচারপতি
প্রসঙ্গত, ১৮৭০ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে টয়ট্রেন চালানো শুরু হয়েছিল৷ এরপর নয় বছর পর ১৮৭৯ সালে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের পাহাড়কে টয়ট্রেনের মাধ্যমে যুক্ত করার কাজ চলছিল। শেষে ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই, শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের উদ্দেশে গড়িয়েছিল প্রথম টয়ট্রেনের চাকা৷ যা আজও শৈলরানির সৌন্দর্যে অনেকাংশ জুড়ে রয়েছে।










