সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি নেই মহুয়া মৈত্রর, মামলা গ্রহণ করলেন না প্রধান বিচারপতি

Published:

Mahua Moitra

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যরাতে সার্কিট হাউস থেকে উচ্ছেদ করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সোমবার এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে। কিন্তু শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় এই মামলা তাঁরা শুনবেন না। অর্থাৎ সার্কিট হাউজের এই মামলা নিয়ে কোনরকম আগ্রহ প্রকাশ করল না প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। চরম বিপাকে মহুয়া মৈত্র।

ঠিক কী ঘটেছিল?

ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে গত ১৪ আগস্ট, সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। সেখানে সময়মতো চা এবং রাতের খাবার পরিবেশন করা হলেও রাত পৌনে ১০টা নাগাদ জেলা প্রশাসন তাঁকে ফোন করে ঘরটি ছেড়ে দিতে বলে বলেছিল। সাংসদের দাবি, কারণ জিজ্ঞেস করায় জানান, ‘উপরমহল থেকে নির্দেশ’ এসেছে। আচমকা এই নির্দেশ নিয়ে খুব হয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই সময় সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে শুরু করেন বলে জানান মহুয়া। কিন্তু প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।

সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মহুয়া

সার্কিট হাউসের এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রথমে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আর এবার সার্কিট হাউস-কাণ্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি কান্তের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর আইনজীবী জানান, “, রাত ১১টার সময়ে এক মহিলা সাংসদকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার সরকারি আবাসন থেকে স্থানীয় প্রশাসন উচ্ছেদ করেছিল। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।” তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, এ নিয়ে তাঁরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন না কেন। জবাবে মহুয়ার আইনজীবী জানান হাই সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন: ‘বাচ্চার দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি..’, ফুটপাথ বিতর্কে কড়া জবাব অগ্নিমিত্রার

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী সার্কিট হাউস থেকে উচ্ছেদ মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, “আমরা এই আবেদন গুরুত্ব দিচ্ছি না।” আর তাতেই মহা সমস্যায় পড়েন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।