সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ফেসবুক লাইভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বরাবরের মতো এবারও শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন তিনি। মমতার কথা অনুযায়ী ‘গদি মিডিয়া’ থেকে শুরু করে রাজ্যের বর্তমান নেতা-মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যকে শেষ করে দিচ্ছে। এমনকি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এদিন সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হয়ে অন্নপূর্ণা পাচ্ছেন না, তাঁদের ব্যবস্থা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো!
শাসক দলের বিরুদ্ধে ফের একবার ক্ষোভপ্রকাশ মমতার
প্রথমেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে আজ রাজ্য সরকারকে কাঠগোড়ায় তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “রাজ্যের মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য রাস্তায় ক্রন্দনরত অবস্থায় ঘুরতে হচ্ছে। আমরা প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মা-বোনেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতাম। এমনকি ভোটের আগে মার্চ মাসেও টাকা দিয়েছি। তবে ভোটের পর প্রায় ৭৫% মহিলার ভাতা পাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সংখ্যাটা আমার জানা নেই। সম্পূর্ণ সার্ভে করলে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় কিন্তু কোনও শর্ত আরোপ ছিল না। কিন্তু এখন আবেদন করতে গেলে বলা হচ্ছে যোগ্যতা পূরণ করেননি। এটা আসলে সম্পূর্ণ প্রতারণা।”
এমনকি মমতা এও বলেন, “যাঁরা যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা পাচ্ছেন না, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে লিস্ট তৈরি করুন। নিজেদের নাম, ঠিকানা এবং যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন পাচ্ছেন না তা লিখুন। আমরা আগামী দিন কিছু ব্যবস্থা তৈরি করব। আপনাদের সাথে পুরোপুরিভাবে আমি আছি। ছিলাম এবং থাকব। বিজেপির নেতারা যদি মনে করে আমাকে মিছিলের পারমিশন দেবে না, তাহলে আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব। তবে বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত আমাদের লড়াই থামবে না।”
আরও পড়ুন: এই দিন পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ, নির্দেশ হাইকোর্টের
ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মমতা বলেন, “যাদবপুরে হামলা করলেও আমি সকলকে নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেছি। আমারও হৃদয় কেড়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। যখন দিল্লিতে ককরোচদের আন্দোলন চলছিল, তখন প্রতিনিয়ত আমি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। বাঁকুড়ায় মারা গিয়েছে, আমি নিজে প্রথমে লোক পাঠিয়েছিলাম। প্রেসিডেন্সিতেও আপনারা আক্রমণ করেছেন। আশুতোষ কলেজেও করেছেন। সব কলেজ কি দখল করবেন আপনারা? সব মিউনিসিপ্যালিটি ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছে পুলিশ। আপনাদের দেখে সত্যিই দুঃখ হয়। যা দেখার লোকে দেখে নিয়েছে। কন্যাশ্রী, বিশ্ব বাংলার নাম বদল করে দিচ্ছেন। জগন্নাথ ধামের নাম বদলেছেন। এসব বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।”










