প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ইন্দ্রনীল সেনের পর ফের কাঠগড়ায় উঠল মমতা তৃণমূলের আরও এক নেতা (Mamata TMC Leader Arrested)। চাকরি দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার গ্রেফতার করা হল গোপীবল্লভপুরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতোকে (Ajit Mahato Arrested)। অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় ১০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে সাধারণের তরফে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল , বৃহস্পতিবার, ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ মমতা-পন্থী তৃণমূলের নেতা অজিত মাহাতোকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তিনি নাকি সজল দাস নামের ঝাড়গ্রামের এক যুবককে সরকারি দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১০ লক্ষ টাকা আদায় করেছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। আর সেই অভিযোগে গতকাল, ওই যুবক ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে। তারপরেই রাতারাতি গোপনতার সঙ্গে অজিত মাহাতোর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতাকে।
চাকরির টোপ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা আদায়
অভিযোগকারী সজল দাস জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় তাঁর কাছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন অজিত মাহাতো। বন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। প্রভাবশালী নেতা হিসাবে অজিত মাহাতো যখন সেই যুবককে চাকরি দেননি তখন সে টাকা ফেরত চায় আর তখনই তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর আগেও ঝাড়গ্রাম থানায় অজিত মাহাতোর নামে বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তখনকার প্রশাসন। পরে বিজেপি সরকার আসতেই, এতদিন পলাতক ছিলেন, ফলে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: ৫৩ কোটির সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ, আরও বিপাকে ইন্দ্রনীল সেন
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুর থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অজিত মাহাতো। কিন্তু ভাগ্য সেই সময় সঙ্গ দেয়নি, বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, অজিত মাহাতো বিভিন্ন সময় রাতে পার্টি অফিসে এলাকার কোনও কোনও মহিলাকে ডেকে পাঠাতেন। সবটাই এবার পুলিশের তদন্তে এসেছে। এখন দেখার প্রশাসনের তরফে অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পুলিশের হেফাজতে ইন্দ্রনীল
অন্যদিকে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। তাঁর এই ঘটনায় ED-র নথিতে নাম উঠে এসেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। যদিও সবটাই গভীরভাবে তদন্ত করে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। গতকাল, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ইন্দ্রনীল সেনকে আদালতে তোলা হলে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।










