অনন্যা সরকার, কলকাতা: জনগণনার (Census) প্রথম পর্যায়, অর্থাৎ বাড়ি শুমারির কাজ সেপ্টেম্বর মাসে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হচ্ছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ১০ কোটি ৪৫ লক্ষ ৮১ হাজার ৮২-তে পৌঁছাতে পারে। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ২৭ লক্ষ ৬ হাজার ১১৫, অর্থাৎ রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যা ১ কোটি ৩৩ লক্ষ ৪ হাজার ৯৬৭ জন বৃদ্ধি পেতে পারে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণনার দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায় শেষ হলে জনসংখ্যার একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।
রাজ্যের কোন জেলা সর্বাধিক জনবহুল?
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জনসংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯ হাজার ২৮৪ জন। ২০১১ সালের মতোই এই জেলাটি এখনও সর্বাধিক জনবহুল জেলা হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তবে জনগণনার প্রথম পর্যায়ে দেখা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। দুই জেলাতেই জনসংখ্যা ১৭ লক্ষেরও বেশি বেড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জনসংখ্যা ৮১ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৬১ থেকে বেড়ে ৯৮ লক্ষেরও বেশি হয়েছে, আর মুর্শিদাবাদে তা ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭ থেকে বেড়ে ৮৯ লক্ষেরও বেশি হয়েছে। জনগণনা কর্মীরা জানাচ্ছেন, খুব কম সংখ্যক বাড়ি খালি বা তালাবদ্ধ থাকায় ২০২৭ সালের জনগণনার জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়েছে।
আবার, কিছু জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। নদিয়ায় জনসংখ্যা ৫১ লক্ষ থেকে বেড়ে ৫৮ লক্ষ হয়েছে, বীরভূমে প্রায় ৩৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ৪০ লক্ষের কিছু বেশি হয়েছে এবং হুগলিতে এই সংখ্যা ৫৫ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৮ লক্ষ হয়েছে। আর কলকাতায় ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৪৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৯৪, যা ২০২৬-এ বেড়ে আনুমানিক ৪৫ লক্ষ ৯ হাজার ৯১৭ হয়েছে। তবে গণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীরা জানিয়েছেন, শহরের ১২ লক্ষ আবাসন ইউনিটের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ বাড়ি খালি বা তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে, যদি এই সংখ্যা কম হতো, তাহলে সংগৃহীত তথ্য আরও নিখুঁত হতে পারত।
আরও পড়ুন: ভুটানে শিনটাফু হ্রদ ভেঙে বিপুল জলস্রোত, বিপদে উত্তরবঙ্গ! মোতায়েন NDRF
মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেও উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখা গেছে। জনগণনার প্রথম ধাপের পর এখানকার জনসংখ্যা ৩৯,৮৮,৮৪৫ থেকে বেড়ে ৫১ লক্ষেরও বেশি হয়েছে। পুরো রাজ্যজুড়ে ৩ কোটি ৬৮ লক্ষেরও বেশি পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪ লক্ষেরও বেশি ফ্ল্যাট খালি বা তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।










