প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে ফের উঠল ভয়ংকর অভিযোগ! রাতের বেলা টিউশন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির (Harrasment Case) অভিযোগ উঠল এক জওয়ানের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হুগলির হরিপাল (Haripal) এলাকায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিক্ষোভে সামিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ হুগলির হরিপালের বন্দিপুর এলাকায় টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিল সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। কিন্তু অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে আচমকা তাঁকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক কেন্দ্রীয় জওয়ান। তখনই ভয়ে সাইকেল ফেলে ওই ছাত্রী দৌড় দেয় এবং সকলকে জানায়। এরপরই গ্রামের মানুষজন তুমুল অশান্তি শুরু করে এবং দায়িত্বে থাকা ওই জওয়ানকে ধরে হরিপাল থানায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সকলের অভিযোগ ওই অভিযুক্ত জওয়ানকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।
কী বলছেন তৃণমূল নেতা বেচারাম মান্না?
জানা গিয়েছে, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সম্প্রতি ওই কেন্দ্রীয় জওয়ান ভোটের কাজে এসেছিলেন হুগলিতে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে নাবালিকার হাত ধরা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। ঘটনার প্রতিবাদে থানার গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তৃণমূলের কর্মীরাও। এমতাবস্থায় গতকাল রাতেই হরিপাল থানায় গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা বেচারাম মান্না। তিনি বলেন, ‘‘BSF জওয়ানের এই কাণ্ডে মেয়েরা সুরক্ষিত নন, এটা প্রমাণ হল। আমরা চাই, ওঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হোক। ওঁর শাস্তি চাইই চাই।’’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারিদিকে যখন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে রীতিমত বেগ পেতে হয় হরিপাল থানার পুলিশরা। হুগলি (গ্রামীণ)-র পুলিশ সুপার সানি রাজ বলেন, ‘‘একটা ঘটনা ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফরওয়ার্ড করা হবে। বিএসএফের উর্দিতে রয়েছেন অভিযুক্ত। তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’’ এখন দেখার ওই কেন্দ্রীয় জওয়ানের শেষ পরিণতি কী হয়।
আরও পড়ুন: রাতের অন্ধকারে দেওয়াল বেয়ে বর্ধমানের স্ট্রং রুমে ঢোকার চেষ্টা? ভিডিও পোস্ট বিজেপির
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই কুলটিতে নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল এক সিআইএসএফ জওয়ানকে। ধৃতের নাম রমাকান্ত বিশ্বকর্মা। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল আসানসোল আদালতে। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফের সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।










