প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের হাওয়া বেশ গরম রাজ্যে। বেশ কয়েকটি জেলায় শাসকদল এবং বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠে এসেছে। আর এই আবহে ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল শান্তিনিকেতনে (Santiniketan)। জানা গিয়েছে, প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বীরভূমের (Birbhum) শান্তিনিকেতনে এক নাবালিকাকে লাগাতার ধর্ষণের (Minor Girl Rape Case) অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়ি বীরভূমের লাভপুরে। তবে সে পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে শান্তিনিকেতনের অ্যান্ড্রুস পল্লীতে একটি বেসরকারি হোমে থাকত। নাবালিকার অভিযোগ, প্রতিদিন হোম ওয়ার্ডেন সন্ধ্যা ও রাতে দু’জন করে ব্যক্তিকে সেখানে নিয়ে আসতেন। এরপর ওই দু’জন ব্যক্তি নাকি তাকে ধর্ষণ করত। এমনকি প্রতিবাদ করলে নাবালিকাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে আচমকা ওই নাবালিকা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাই বাধ্য হয়ে হোম ওয়ার্ডেন নাবালিকাকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং খবর দেওয়া হয় পরিবারকে।
অভিযোগ অস্বীকার হোম কর্তৃপক্ষের
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাবালিকাকে দেখতে পরিবারের সদস্যরা এলে নির্যাতিতা তার মামিকে গোটা বিষয়টি জানায়। আর তাতেই মাথায় বাজ পড়ে নির্যাতিতার পরিবারের মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তোলে। কিন্তু অভিযোগ জানাতে লাভপুর থানায় গেলেও সেখানকার পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয় তাদের। শেষে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত নেমেছে সেখানকার পুলিশ। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিতে চাইছে ওই বেসরকারি হোমের কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, নির্যাতিতা ও তার পরিবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: DA নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল অর্থ মন্ত্রক
ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে। ভোটের মরসুমে এমন একটি গুরুতর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধের মাত্রা ও ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মুখরিত হয়েছে। অন্যদিকে ভোটের মরসুমে এমন একটি গুরুতর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নারী নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।










