সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিধানসভা ভোটের মাঝেও বাংলার ডিএ (Dearness allowance) মামলায় চাপানউতোর বাড়ছে। একদিকে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আঅতায় বকেয়া টাকা, অন্যদিকে বাজেটে ঘোষণা হওয়া শতাংশ ডিএ নিয়ে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বাড়ছে। তারওপর আগুনে ঘি ঢালার সমান হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের DA ঘোষণা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে। সেখানে এখনও অবধি বাংলার কর্মীরা পাচ্ছেন ১৮ শতাংশ। কবে মিলবে ২২ শতাংশ হারে ডিএ? সেই প্রশ্ন তুলছেন সকলে। এরই মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ডিএ সংক্রান্ত নতুন নোটিফিকেশন জারি করা হল।
DA নিয়ে নতুন পদক্ষেপ কেন্দ্রের
কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। এই মহার্ঘ ভাতা ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। সম্প্রতি সরকার কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা ২ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। আগে মহার্ঘ ভাতা ছিল ৫৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাতা বৃদ্ধির দাবি করে আসছিলেন। তবে, এবার মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণাটি অনেক দেরিতে এসেছে।

এই বৃদ্ধি কর্মচারীদের বেতনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা হয়, তাহলে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১,০০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন। অর্থ মন্ত্রকের কর্তৃক জারি করা এই স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মজুরির একটি পৃথক উপাদান হিসেবে থাকবে এবং মৌলিক বিধির আওতায় এটিকে বেতনের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না। বিভিন্ন ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধা গণনার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলার ডিএ-র ফারাক কতটা?
এদিকে কেন্দ্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ডিএ-র ফারাক ক্রমে বেড়েই চলেছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা প্রায় ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। সেই হিসাবে কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪২ শতাংশ, যা কিনা রেকর্ড। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার সরকারি কর্মীদের মধ্যে রাগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে ক্ষোভ, অসন্তোষ। রেকর্ড হারে বেড়ে চলেছে বৈষম্য।পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে? উত্তর জানা নেই কারোর।
খুশি সরকারি কর্মীরা
সংশোধিত ডিএ হার শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রতিরক্ষা পরিষেবা বাজেট থেকে বেতন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং রেল কর্মচারীদের জন্য যথাক্রমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পৃথক আদেশ জারি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাইহোক, সরকারের এহেন ঘোষণায় সকলের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে।










