“আমার মেয়ের অপরাধীদেরও..” গাইঘাটা এনকাউন্টারে প্রতিক্রিয়া অভয়ার মায়ের

Published:

Gaighata Encounter

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সমাজে নারী সুরক্ষায় কোনও আপস নয়। সকালে জমা, বিকেলে খরচ…রেয়াত করা হবে না দোষীদের। সেই কারণে আইনশৃঙ্খলা যাতে সঠিক থাকে তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই প্রথম এনকাউন্টার হয় বারুইপুরে। এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল গাইঘাটায় (Gaighata Encounter)। বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ধৃত প্রহ্লাদ দাসের। আর এবার সেই নিয়ে চাঞ্চল্যকর প্রতিক্রিয়া জানালেন অভয়ার মা রত্নাদেবী (Ratna Debnath)।

কী বললেন অভয়ার মা?

গাইঘাটায় ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টারের কথা শুনে পানিহাটির বিধায়ক তথা অভয়ার মা রত্নাদেবীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘ আমি এই এনকাউন্টারকে সমর্থন করি। আগে সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকার বিচারের রাস্তা তৈরি করছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করে, তাদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী? এনকাউন্টারই এদের জন্য ঠিক। আমি চাই, আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এই পরিণতি হোক। যত এরকম হবে, তত ওরা ভয় পাবে।” যদিও বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি রত্নাদেবী তবে সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রোলের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ বিজেপি কর্মীর 

পুলিশের কাজে খুশি নির্যাতিতার বাবা

বারুইপুর কাণ্ডে রত্নদেবী ওই মেয়েটির পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের মেয়ের শ্রেণিগত অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরেছিলেন, সেই নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। তবে এবার গাইঘাটা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমে কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, “মেয়েকে তো আর ফিরে পাব না। অন্তত বিচার পাই। পুলিশ ভালো কাজ করেছে। শুনেছি অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল। পালটা পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।” শুধু কিশোরীর বাবাই নন, ঘটনায় খুশি স্থানীয় মানুষজনও। এমনকি খুশি পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

মুখোমুখি দিলীপ

সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে এদিন দিলীপ ঘোষ এনকাউন্টার প্রসঙ্গে জানান, “মানুষকে ন্যায় পাইয়ে দিতে হবে। মানুষ পুলিশের উপর আস্থা রাখতে ভুলে গেছে। ভরসা ফেরাতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে। বাংলায় বহু বছর আইনের শাসন নেই। আইনের প্রতিষ্ঠা হলে সবাই ভয় পাবে।” অন্যদিকে এই ঘটনার পরেই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন মৃত প্রহ্লাদ দাসের বাবা। তাঁর দাবি, পুলিশের উপর থেকে আমাদের সমস্ত ভরসা উঠে গেল। আমার ছেলের সঠিক বিচার হল না।

আরও পড়ুন: মাত্র ৬ মাস বয়সেই বিশ্বরেকর্ড শিশু কন্যার!

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার পর গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ওই দেহটি উদ্ধার করার পরেই পরিবারের দাবি ছিল, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এরপরেই প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যায়, ধৃত ব্যক্তি ওই পরিবারেরই আত্মীয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। সকলের দাবি ছিল দোষী যেন চরমতর শাস্তি পাক, আর সেটাই হওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে সেখানে।

google button