বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তৃণমূল জামানায় পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে এসেছিল বহু আগেই। রাজ্যে (West Bengal) পালাবদল হতেই একে একে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তদন্ত। বিশেষ করে পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকদের নানান দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতেই নাম আসে প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সির (Ex BDO Shanu Bakshi)। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের সুবিধার্থে নানান দুর্নীতিযুক্ত কাজে জড়িত ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, শানুর বিরুদ্ধে ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। এবার সেসব নিয়েই মুখ খুললেন প্রাক্তন বিডিওর মা।
দুর্নীতিতে যুক্ত মেয়ের নাম, মুখ খুললেন শানুর মা
জলপাইগুড়ির বাসিন্দা শানুর মা শংকরি বক্সি। মেয়ে প্রাক্তন বিডিও শানুর বিরুদ্ধে তৃণমূল আমলে একাধিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব শুনে একেবারে কেঁদেই ফেললেন তিনি। জানালেন, “শানুকে কোথাও না কোথাও গিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। এতজন বিডিও তো কাজ করেছে, কাউকে নিয়ে অভিযোগ উঠল না। শুধু ওকে নিয়েই কেন! ও নিজেও বুঝতে পারছে না এমনটা কেন হল!”
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির মেটালিতে যে বাড়িতে শানুর মা থাকেন, সেটা তাঁর স্বামীর বানানো। এক মুদি দোকান থেকে যেটুকু যা আয় হতো তা দিয়েই টিনের চালের এক কামরার বাড়ি তৈরি করেছিলেন শানুর বাবা। সালটা 2008। সে বছরই পরলোক গমন করেন তিনি। তাতে বেশ সমস্যা হয়েছিল শানুর লেখাপড়ায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই সব ধাক্কা সামলে ডাব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় বসে শানু। পরবর্তীতে পরীক্ষায় সফল হয়ে বিডিও হন তিনি! তবে এলাকাবাসীদের অভিযোগ, শানু ডাবলুবিসিএস পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছেন তাতে বিডিও হওয়ার কথা নয়।
অনেকেরই দাবি, নম্বর অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শানুর। তা না হলে নাকি তাঁর পক্ষে বিডিও পদে চাকরি করা সম্ভব নয়। এর আগে শানুকে এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন! পরবর্তীতে তৃণমূল জামানায় বারবার জাহাঙ্গীরের সাথে উঠেছিল বিডিও শানুর নাম। বলাই বাহুল্য, 2019 সালে প্রথমবারের মতো বিডিও হয়ে জাহাঙ্গীরের ফলতাতেই এসেছিলেন শানু। বলা চলে সেখান থেকেই কেরিয়ারের সূচনা।
অবশ্যই পড়ুন: ‘তৃণমূলের আমলে মেয়েরা রাত ২টোয় ঘুরে বেড়াত, এখন ভয় পাচ্ছে!’ বিস্ফোরক মমতা
শানুর বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ
তৃণমূল জামানা শেষ হতেই রাজ্যে শুরু হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন। আর তারপরেই পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির সাথে যুক্ত প্রায় প্রত্যেককেই তদন্তের আওতায় নিয়ে আসছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। জানা যায়, এই শানুর বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ আছে। মালবাজারের 13 নম্বর ওয়ার্ডের একটি জমি 2020 সালে বাজারদরের তুলনায় অনেকটাই কম দামে কিনেছিলেন শানু।
যদিও এ নিয়ে জমির মালিক বাদল বাবু বলেছিলেন, করোনা মহামারীর সময় চিকিৎসার জন্য টাকার খরচ জোগাড় করতেই অল্প দামে তিনি সেই জমি বিক্রি করেছিলেন। তবে অবাক করা বিষয়, শানু নামক কোনও বিডিও বা সাধারণ ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না। বর্তমানে এই দুর্নীতির অভিযোগেই ওই প্রাক্তন বিডিওর বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত। যদিও শানুর মা একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মেয়ে এই ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত নেই। সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।










