সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ জল্পনার অবসান। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। বিদ্যালয়গুলিতে জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়াও, বিদ্যালয়গুলিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সজ্জিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রী প্রকল্প (PM Shri Scheme) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকার বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন
প্রকৃতপক্ষে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, যা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক প্রকল্প থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল, এখন জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ এবং পিএম-শ্রী স্কুল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। নিশ্চয়ই ভাবছেন কী হয়েছে? তাহলে জানিয়ে রাখি, গতকাল শুক্রবার নয়া দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটিকে রাজ্যে শিক্ষা সংস্কারের এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই মে মন্ত্রকের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগ, ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে ‘পিএম-শ্রী স্কুল উদ্যোগ’ বাস্তবায়নের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় কুমারের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব ধীরাজ সাহু এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বিনোদ কুমার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
Today, an MoU was signed to implement the PM SHRI Schools initiative across West Bengal. Aligned with the vision of NEP 2020, this initiative focuses on transforming existing schools into model institutions of excellence: Ministry of Education
(Source: Ministry of Education) pic.twitter.com/bJb31jtWse
— ANI (@ANI) May 15, 2026
কী কী সুবিধা মিলবে?
প্রশ্ন উঠছে, এই স্কিমের আওতায় শিক্ষা ব্যবস্থায় কেমন বদল আসবে, কীভাবে উপকৃত হবে পড়ুয়ারা। PM Shri প্রকল্পটি জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর রূপকল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের নির্বাচিত সরকারি স্কুলগুলিকে আধুনিক মডেল স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে। এই স্কুলগুলোতে থাকবে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল শিক্ষা, আধুনিক গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ক্রীড়া সুবিধা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। সামগ্রিক বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের কামাল, এবার বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছাবে হাই-স্পিড ইন্টারনেট
এই পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো শক্তিশালী করাই নয়, বরং সেগুলোকে উৎকৃষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা, যাতে আশেপাশের অন্যান্য বিদ্যালয়গুলো তাদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের শিক্ষার মান উন্নত করতে পারে।










