অনন্যা সরকার, পূর্ব মেদিনীপুর: দিঘার (Digha) মোহনায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই পর্যটকদের চোখে পড়ে জিনিসটা। এটা আর কিছুই নয়, একটা বড় সিগন্যালিং বয়া (Signaling Buoy)। মাছ ধরতে মোহনায় যাওয়া মৎস্যজীবীরা আগেই লক্ষ্য করেন এটিকে। তাঁরা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে সমুদ্রে যাওয়ার সময় তাঁরা প্রথম মোহনা এলাকায় বয়াটিকে ভাসতে দেখেন। বয়াটি দেখার জন্য স্থানীয় ও পর্যটকদের ভিড়ও এদিন চোখে পড়ার মত ছিল। সমুদ্রে জাহাজ ও ট্রলারের জন্য ব্যবহৃত এই সিগন্যালিং বয়াটি কেন হঠাৎ মোহনায় ভেসে এল, তা নিয়ে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই।
সিগন্যালিং বয়া আসলে কী?
সমুদ্রে যাতায়াত করা বড় জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলারগুলির জন্য এধরনের বয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমূদ্রের গভীরতা সব জায়গায় সমান হয় না। কোথাও বালুচর জেগে ওঠে, কোথাও অগভীর জল তো আবার কোথাও জলের গভীরতা অনেক বেশি হয়। তাই সামুদ্রিক যানগুলির নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই নেভিগেশনাল বা সংকেতবাহী বয়াগুলির ব্যবহার হয়।
আরও পড়ুন: দিঘার সমুদ্রে ভয়ঙ্কর কাণ্ড, ৭ পর্যটকের সাথে যা হল! ছড়াল আতঙ্ক
অনেক দূর থেকে দৃশ্যমান হওয়ার ফলে এই সিগন্যালিং বয়াগুলো সমুদ্রপথ সম্পর্কে অত্যন্ত জরুরি সংকেত দিতে করতে পারে। এগুলো জাহাজ বা ট্রলারগুলোকে নিরাপদ পথ খুঁজে নেওয়ার জন্য, বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন এমন অঞ্চল চিনে নেওয়ার জন্য এবং নির্দিষ্ট সামুদ্রিক সীমানা চিহ্নিত করার জন্য এই বয়ার ব্যবহার হয়। ফলে নিরাপদে সমুদ্রে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত এই গুরুত্বপূর্ণ বস্তুটি কীভাবে হঠাৎ করে দিঘা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন জেগেছে পর্যটক ও স্থানীয়দের মনে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন, সমুদ্রপথে চলাচলকারী ট্রলার ও জাহাজগুলিকে সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে এধরনের বয়া খুবই জরুরি। ভেসে আসা বয়াটিকে দেখার জন্য এখন শুধু পর্যটক নয় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দিঘার সমুদ্রসৈকতে আনাগোনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান তিনি বয়াটির কথা শুনেই সেটি দেখতে সৈকতে এসেছেন।
আরও পড়ুন: জানেন ১৯৪৭-র পর একে একে স্বাধীন হয় কোন কোন দেশ? রইল তালিকা
তবে, ঠিক কোন কারণে বয়াটি তার মূল অবস্থান থেকে ভেসে দিঘা মোহনায় ভিড়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানা যায়নি। এবিষয়ে প্রশাসনের তরফেও এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। সামুদ্রিক ঢেউ, জোয়ার-ভাটা বা স্রোতের টান – এটির ভেসে আসার একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই প্রকৃত কারণ জানাতে কৌতূহলীরা ভিড় জমিয়েছেন সৈকতে।










