নৈহাটিতে বন্ধ কালীপুজো চালু করতে বাধা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু নেতার, পাল্টা হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কদের

Published:

Naihati

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নৈহাটিতে (Naihati) বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা কালীপুজোকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে এগিয়ে এলেন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। কিন্তু সেই কাজে এবার বাধা হয়ে দাঁড়াল কংগ্রেস। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা (Naihati Kali Puja Dispute) অশান্তি বাঁধতেই ঘটনাস্থলে যান নৈহাটি ও বিজপুরের বিজেপি বিধায়করা। এরপরেই সেখানে পুজো পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা মুহাম্মদ আমিনকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় দুই বিজেপি বিধায়কের তরফে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, নৈহাটির কারিগরপাড়ায় একসময় কালীপুজো হত, পাড়াতে মাত্র দুই ঘরে হিন্দুর বসবাস। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে সেই পুজো বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি কালীপুজো স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালুঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের সহযোগিতায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাল সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা। এমনকি কংগ্রেস নেতা মুহাম্মদ আমিনও এই পুজোর বিরোধিতা করে, আর তাতেই শুরু হয় ব্যাপক ঝামেলা অশান্তি। এবার সেই সমস্যার সমাধান করলেন নৈহাটি ও বিজপুরের বিজেপি বিধায়করা।

হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের

জানা গিয়েছে, গতকাল বুধবার রাতে নৈহাটির কারিগরপাড়ায় ঝামেলার মাঝেই হাজির হয়েছিলেন নৈহাটি বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও বিজপুর বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তাঁরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ধমকের সুরে বিজপুর বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস জানিয়েছেন, “সেক্যুলার দেশে যেখানে খুশি মসজিদ গড়ে উঠতে পারলে মন্দিরও গড়ে উঠতে পারে। ভুলেও কেউ যদি মন্দির ভাঙার চেষ্টা করে তাহলে তার পা ভেঙে দেওয়া হবে।” বিজেপির সংখ্যালঘু দলের নেতা আখতার আলী জানিয়েছেন, “পুজো হবেই, আমি দাঁড়িয়ে থেকে পুজো দেব।”

আরও পড়ুন: কাঁচরাপাড়ার স্কুলে ভয়ঙ্কর কাণ্ড! পড়ুয়াদের উপর কাঁচি নিয়ে হামলা, হাসপাতালে দুই

সুদীপ্ত দাসের পোস্ট

নৈহাটির কারিগর পাড়ায় পুজো বিভ্রাট নিয়ে বিধায়ক সুদীপ্ত দাস তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছিলেন। যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে, “নৈহাটির কারিগর পাড়ায় এলে বুঝতেন, কেন ধর্মনিরপেক্ষতার তকমাটা ততোক্ষণই শুনতে খুব ভালোলাগে যতক্ষণ হিন্দুরা সংখ্যায় বেশি। এই পাড়াতে মাত্র দুই ঘর হিন্দুর বসবাস। এই মুসলিম অধ্যুষিত পাড়ায় এই সংখ্যালঘু হিন্দুদের পুজোর অধিকার ছিলো না বছরের পর বছর। আজ আমি আর নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে এই পরিবারগুলোকে কালীপুজো করার সাহস দিলাম। এবার এখানে কালীপুজো হবে…হবেই।”

বিগত কয়েক বছরে ঘাসফুল শিবিরের নেতানেত্রীদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক তাবড় পুজোর রাশ এখন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের হাতে। আগের থেকে চোখধাঁধানো আয়োজন উপহার দিয়ে দর্শনার্থীদের চমকে দেওয়াই মূল লক্ষ্য উদ্যোক্তাদের। দুর্গাপুজোর সময় যে ভুল তাঁরা করেছিলেন সেগুলি কালীপুজোয় যাতে না হয় সেদিকেই এখন নজর সকলের।

google button