“মা নোংরায় পড়ে থাকবে?” রোজ বিনা ক্লান্তিতে শান্তিপুরের আগমেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা

Published:

Old Woman Agameshwari Temple

অনন্যা সরকার, নদিয়া: শান্তিপুরের প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো আগমেশ্বরী কালীমন্দিরে (Agameshwari Temple) গেলে তাঁকে রোজই দেখতে পাবেন। কয়েকটা কাঠি জোগাড় করে সেগুলোকে ঝাড়ু বানিয়ে শীর্ণকায় বৃদ্ধা (Old Woman) বিনা ক্লান্তিতে পরিষ্কার করে চলেছেন মন্দির চত্বর। “মাকে নোংরা অবস্থায় রাখা যাবে না”- এই মনোভাব থেকেই গত দু’বছর ধরে নিয়মিত মন্দির চত্বর পরিষ্কার করে আসছেন তিনি। মন্দিরটাই ঘরবাড়ি হয়ে হয়ে গেছে  সত্তরোর্ধ্ব কল্পনা দেবীর কাছে। মা আগমেশ্বরী দুবেলা দুমুঠো জুটিয়ে দেন বলেই জানান তিনি। তাঁর এই ভক্তি ও ঈশ্বর সেবা স্থানীয় মানুষদের মন কেড়ে নিয়েছে।

একা হাতে মন্দির চত্বর পরিষ্কার রাখেন বৃদ্ধা

কেন এভাবে সারাদিন মন্দির চত্বর পরিষ্কার করতে থাকেন তিনি – এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে কল্পনা দেবী বলেন, মায়ের জন্যই সবটা করেন তিনি। মায়ের মন্দির নোংরা দেখতে তাঁর ভালো লাগে না। মা নোংরায় পড়ে থাকবেন, এটা তিনি দেখতে চান না। তাই হাতের সরু ঝাড়ুটা নিয়ে মন্দির চত্বরে ছড়িয়ে থাকা গাছের পাতা, পুজোর সামগ্রীর অংশ ও ধুলো-ময়লা ঝাঁট দিয়ে একাধারে জড়ো করেন। এটি তাঁর রোজকার কাজ। তিনি জানান, কেউ তাঁকে জোর করেনি এই কাজ করতে, তিনি স্বেচ্ছায় মা আগমেশ্বরীর মন্দিরের জন্য এই সেবা করেন। 

আরও পড়ুন: ১০ বাক্সে শুরু, কেনাবেচা হচ্ছে ৩৫ লক্ষ লিটার মধু, মৌমাছি পালনেই কোটিপতি শশী কুমার

পরনে একটা জরাজীর্ণ শাড়ি, শীর্ণ শরীর – ৭০ পেরোনো কল্পনা দেবীর এই নিষ্ঠা ও কর্মক্ষমতা স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে। তাঁরা মন্দিরের কাছেই তাঁর থাকার একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দুবেলা অন্নের অভাব হয়নি এই দু’বছরে। বৃদ্ধা জানান, তাঁকে ভালবেসে সবাই খেতে দেন। মায়ের কৃপাতেই খাবার জুটে যাচ্ছে তাঁর।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রায় দু’বছর ধরে মন্দির পরিষ্কারের কাজ করছেন ওই বৃদ্ধা। তবে শুধু আগমেশ্বরী কালীমন্দির নয়, এলাকার অন্যান্য মন্দির প্রাঙ্গণও পরিষ্কার করে রাখেন তিনি। তাঁর বাড়ি কাছেই। পরিবারে সদস্যও রয়েছেন। তবে কিছু পারিবারিক সমস্যার কারণে কল্পনা দেবী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন এই মন্দির চত্বরেই থাকেন।

তাঁর খাওয়া-পরার ভার ওই এলাকার মানুষই নিয়েছেন। কিছু সংগঠনও এবিষয়ে সাহায্য করে। পাশেই একটি জায়গায় তাঁর থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয়দের কথায়, মা তো সবাইকে সৃষ্টি করেছেন, তাই মা-ই হয়তো মায়ের কাজ আরেক মাকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছেন।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন