দেখলেই গ্রেফতার, অভিষেক ঘনিষ্ঠ কয়লা মাফিয়া বিনয়ের বিরুদ্ধে ‘ওপেন ওয়ারেন্ট’ CBI-র

Published:

Binay Mishra

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কয়লা পাচার মামলায় এবার ওপেন ওয়ারেন্ট জারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ মাফিয়া বিনয় মিশ্রের (Binay Mishra) বিরুদ্ধে। রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরপরই এই মামলার তদন্তের দায়ভার নিয়ে কার্যত হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে। মামলার মূল অভিযুক্ত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্র। সূত্রের খবর, পালাবদলের পরপরই বিদেশে পালিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন তিনি। তবে এবার দেখলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। এমনকি আজীবন এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলেই জানানো হয়েছে।

বিপাকে অভিষেক ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্র

রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর কয়লা পাচার মামলায় বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করে সিবিআই। অভিযোগ, একাধিকবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরেও কোনও হদিস মেলেনি তাঁর। এমনকি মামলায় নাম জড়ানোর পর এখান থেকে লোটাপত্র গুটিয়ে সুদূর ভানুয়াতু দ্বীপে পালিয়ে যান তিনি। সেখানেই বর্তমানে বসবাস করছেন এবং সেখানকার পাসপোর্ট তৈরি করে নিয়েছেন এই কয়লা মাফিয়া। এমনকি সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই দুবাই, লন্ডনসহ একাধিক দেশে যাতায়াত করছেন তিনি। তবে যেহেতু ভানুয়াতুর সঙ্গে ভারতের সেরকম কোনও প্রত্যার্পন চুক্তি নেই, তাই বিনয়কে গ্রেফতার করতে আইনি জটিলতা পোহাতে হচ্ছে সিবিআই-কে।

তবে শেষমেষ আর রাস্তা খুঁজে না পেয়েই ওপেন ওয়ারেন্ট জারি করার পথে হাঁটল সিবিআই। এমনকি দিল্লি আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা এ বিষয়ে আবেদন জানান। সেখানে সিবিআই-র আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে বলেই খবর। যেহেতু বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন বিনয় মিশ্র, তাই তাঁকে গ্রেফতার করা সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলেই দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তাই সারা জীবন যাতে এই রায় বজায় থাকে, সেই কারণেই ওপেন ওয়ারেন্ট।

আরও পড়ুন: ট্রেনের মধ্যে বিবস্ত্র হয়ে RPF-র উপর আক্রমণ, গ্রেফতার জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী

এবার নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কী এই ওপেন ওয়ারেন্ট? সহজ ভাষায় বলে রাখি, এটি হল গ্রেফতারি পরোয়ানার সর্বোচ্চ স্তর। যদি কারোর বিরুদ্ধে ওপেন ওয়ারেন্ট জারি হয়ে থাকে, তাহলে তাঁকে যেখানেই দেখতে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা। এমনকি তার জন্য কোনও নথি দেখানোর প্রয়োজন পড়বে না। দীর্ঘদিন ধরে যদি কেউ পলাতক থাকে, এবং শেষমেষ খুঁজে পাওয়া সম্ভবপর না হয়ে দাঁড়ায়, তাহলেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ওপেন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। তবে এতে তৃণমূল নেতা যে আরও বিপাকে পড়লেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।