৫ কোটির মধ্যে মিটিয়েছেন ৫০ লাখ! রাজপাল যাদবকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

Published:

Supreme Court Slams Rajpal Yadav

অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: চেক বাউন্স ও টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত মামলায় আরও বিপাকে বিখ্যাত বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। সোমবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) অভিনেতা ও তাঁর আইনজীবীকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছে। আদালতের রেজিস্ট্রিতে অভিনেতার প্রতিশ্রুত অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কড়া মন্তব্য করে বলেন যে, অভিনেতার আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই এবং এই ধরনের ঔদ্ধত্যের জন্য তাঁর জেল হওয়া উচিত। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনাকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রাজপাল যাদবকে মঙ্গলবারের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে রাজপাল যাদব 

সোমবারের শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায় যে, ১৫ সেপ্টেম্বর দুই সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া সত্ত্বেও রাজপাল যাদব সোমবারের (৫ অক্টোবর) মধ্যে আদালতের রেজিস্ট্রিতে ৫ কোটি টাকা জমা দেননি। যদিও, রাজপাল যাদবের আইনজীবী ৫০ লক্ষ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফটের ফটোকপি দেখিয়ে দাবি করেন যে, ব্যাংক এই ডিমান্ড ড্রাফটটি প্রোসেস করছিল এবং ছুটি থাকার কারণে এই বিলম্ব হয়েছে।

তবে, বেঞ্চ এই ড্রাফটটি আসল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এর পাশাপাশি জানায় যে, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিনেতাকে সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ইতিমধ্যেই সময়সীমা পার করে গেছেন। যদি কোনো সমস্যা থাকত, তাহলে তিনি সময় বাড়ানোর জন্য কোর্টে আবেদন করেননি কেন, তা নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। 

আরও পড়ুন: মিলবে ৫০ হাজার টাকা, ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কারা পাবেন সুবিধা? 

অভিযোগকারীর (Murli Projects) আইনজীবী বলেন যে, তিনি একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা, তাই আদালতেও অভিনয় করছেন। আদালতের মর্যাদার প্রতি তাঁর কোনো শ্রদ্ধা নেই। যখন রাজপাল যাদবের আইনজীবী যুক্তি দেন যে অভিযোগকারী “গরিব নন,” তখন জয়মাল্য বাগচী ও ভি. মোহনার ডিভিশন বেঞ্চের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আইনজীবীকে তিরস্কার করে বলেন যে, তারা অভিনেতার চেয়ে ধনী হতে পারে, কিন্তু রাজপাল প্রতারণার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে যে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, সেই পরিমাণে তারা গরীব। এই অহংকারকে তাঁর সঠিক জায়গায় আনা দরকার। তাঁর জানা উচিত কখন মুখ খুলতে হয় আর কখন চুপ থাকতে হয়। অভিযুক্তের আসল জায়গা হলো জেল! সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, তারা রাজপাল যাদবের আবেদনটি সঙ্গে সঙ্গেই খারিজ করে দিতে পারতো,  কিন্তু অভিযোগকারীকে পাওনা টাকা আদায় করে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অভিনেতাকে শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, রাজপাল যাদব এবং তাঁর স্ত্রী একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি সংস্থা থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু এই চলচ্চিত্রটি যখন নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, তখন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। কিন্তু মুরলী প্রজেক্টসের তরফে অভিযোগ করা হয় যে, রাজপাল যাদবের দেওয়া সিকিউরিটি চেকগুলো ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সেগুলি বাউন্স করে।

আরও পড়ুন: পুজোর রাতে চলবে অতিরিক্ত বেসরকারি বাস, জরুরি বৈঠকে পরিবহণমন্ত্রী

২০২৪ সালের মে মাসে, দিল্লির একটি সেশনস কোর্ট রাজপাল যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দণ্ডিত করা হয়। দিল্লি হাইকোর্ট একটি সমঝোতার প্রতিশ্রুতিতে তাঁর সাজা স্থগিত করে, কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পর হাইকোর্ট ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে আত্মসমর্পণের আদেশ দেয়। রাজপাল যাদব ৫ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁর জেল হয়। পরে দেড় কোটি টাকা জমা দিয়ে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছাড়া হয়। বাকি টাকা শোধ না করায় হাইকোর্ট তিন মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা করার পর, রাজপাল যাদব সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কঠোর নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে যে, যদি রাজপাল যাদব মঙ্গলবারের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ না করেন, তবে আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি তুলে নেবে ও আরও কঠোর রায় দেবে। মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

google button