পুজোর রাতে চলবে অতিরিক্ত বেসরকারি বাস, জরুরি বৈঠকে পরিবহণমন্ত্রী

Published:

pujo bus

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজোর (Durga Puja) কয়েক দিন কলকাতার (Kolkata) রাস্তায় যাতে বাস পরিষেবায় (Bus) কোনও ঘাটতি না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বেসরকারি বাসের সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগী পরিবহণ দফতর। সরকারি বাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বেসরকারি বাসও রাস্তায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ময়দান তাঁবুতে বিভিন্ন বাসমালিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ। পুজোর সময়ে বাস চালানোর ক্ষেত্রে মালিকদের কী কী সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।

পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে বাসমালিকদের অভিযোগ

এ বার পঞ্চমী থেকেই সরকারি ও বেসরকারি বাসের পরিষেবা রাতভর চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রাত এবং ভোরের সময়ে সরকারি বাসের পরিষেবা বাড়াতে অতিরিক্ত শিফটে গাড়ি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই ভাবে বেসরকারি বাসের সংখ্যাও পর্যাপ্ত রাখতে চাইছে রাজ্য। কিন্তু বাসমালিকদের একাধিক অভিযোগের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাসমালিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, উৎসবের সময়ে পুলিশি ব্যবস্থাপনার জন্য অনেক সময় বেসরকারি বাস রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়। সেই বাসের জন্য নির্ধারিত ভাড়া বা ক্ষতিপূরণের টাকাও সময়মতো মেলে না। মিনিবাস অপারেটর্স কোঅর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন ঘোষের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে পুলিশের কাজে ব্যবহার করা বাসের ভাড়ার টাকাই এখনও অনেক ক্ষেত্রে বকেয়া রয়েছে। নতুন করে বাস তুলে নেওয়া হলে মালিকদের আর্থিক সমস্যা আরও বাড়বে বলে তাঁর আশঙ্কা।

এই পরিস্থিতিতে পুজোর সময়ে পুলিশের যাতায়াতের জন্য স্কুলবাস ব্যবহার করার প্রস্তাবও এসেছে। সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহার বক্তব্য, পুজোর সময় স্কুল বন্ধ থাকায় ওই বাসগুলি ব্যবহার করলে বেসরকারি বাস তুলে নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।

শুধু বাস রিকুইজিশন নয়, পুলিশি জরিমানা, নির্দিষ্ট রুটে বাস চালাতে বাধা এবং স্টপেজ সংক্রান্ত সমস্যাও দীর্ঘদিনের অভিযোগ বলে বাসমালিকদের দাবি। জুন মাসেও পরিবহণ দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বাসভাড়া, পুলিশি হয়রানি, টোল এবং অটো-টোটোর মতো বিষয়গুলি নিয়ে সংগঠনগুলির তরফে একাধিক দাবি জানানো হয়েছিল। পরে পুজোর পর বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: উৎসবের মরশুমে করা যাবে না হকার উচ্ছেদ, জানিয়ে দিল মানবাধিকার কমিশন

তাই আসন্ন বৈঠকে পুজোর সময় নিরবচ্ছিন্ন বাস পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাসমালিকদের পুরনো সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খোঁজাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। মালিকদের দাবি মেনে পুলিশি হয়রানি ও রিকুইজিশন সংক্রান্ত জটিলতা কমানো গেলে উৎসবের মরশুমে রাস্তায় বেসরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানো অনেকটাই সহজ হবে।

google button