বাংলার আবাস যোজনায় ডাবল যাচাই, খতিয়ে দেখা হবে ৩০ লক্ষ আবেদন

Published:

PM Awas Yojana

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলায় আবাস প্রকল্পের (PM Awas Yojana) দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ আগেই উঠে এসেছিল পূর্বতন সরকারের আমলে। কিন্তু এবার রাজনৈতিক পালাবদল হতেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। দুর্নীতি রুখতে এবার ৩০ লক্ষের বেশি আবেদন যাচাই শুরু করল প্রশাসন। প্রত‍্যেকের দাখিল করা তথ্য প্রকল্পের শর্তের সঙ্গে মিলছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সমীক্ষার চূড়ান্ত যাচাই করবে কেন্দ্র

বিগত সরকারের আমলে সরকারি আবাসন প্রকল্পে বারংবার অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার বেআইনি সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় উপভোক্তাদের প্রায় ৫৭ হাজার এমন ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকেই বাদ পড়েছে। তবে সরকারের এখন একটাই লক্ষ্য, কোনও বেআইনি সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারীকে সরকারি টাকা দেওয়া হবে না। আর সেই কথা মত শুরু হতে গিয়েছে সমীক্ষা। তবে চূড়ান্ত যাচাই এবং তার ভিত্তিতে অনুমোদনের ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ তালিকা তৈরির কাজ রাজ্য চালালেও নিজেদের বিধি অনুযায়ী খতিয়ে দেখবে কেন্দ্র।

আবাসে ৩০ লক্ষের বেশি আবেদন যাচাই শুরু

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। সেখানেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে একাধিক আলোচনা করা হয়েছিল এবং ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বদলে ১২৫ দিনের কাজের ‘ভিবি-জিরাম জি’ এবং আবাস যোজনায় ছাড়পত্র দেওয়া হয় বঙ্গে। আবাস প্রকল্পেও যোগ্য উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির টাকা দিতে কেন্দ্র যে প্রস্তুত সেই বার্তাও দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। তার পরে সমীক্ষা শুরু করে নবান্ন। এখনও পর্যন্ত ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ বাড়ি চেয়েছেন এবং তাঁদের তালিকা যাচাই করতে শুরু করেছে নবান্ন।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ সন্দীপ ঘোষ, দাবি কী আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষর?

হবে ডাবল ডাবল যাচাই!

জানা গিয়েছে, নবান্নের এই সমীক্ষার পরে চূড়ান্ত তালিকা যাচাই করবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। প্রত‍্যেকের দাখিল করা তথ্য প্রকল্পের শর্তের সঙ্গে মিলছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। তারপরেই যোগ‍্য উপভোক্তাদের অর্থ বরাদ্দ করা হবে। এই সমীক্ষায় যাতে কোনো রকম অসঙ্গতি না হয় তা নজরে রাখার নির্দেশও দিয়েছে সরকার। কারণ তৃণমূল সরকারের আমলে গ্রাহকদের আবাসের সুবিধা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক নানা পদাধিকারী সেই টাকার একাংশ আত্মসাৎ করেছিলেন। যা নিয়ে কম অভিযোগ ওঠেনি, তাই সেইসব বিষয় নজর রাখা হচ্ছে।