কোচবিহারে ফের অন্তঃসত্ত্বাকে মারধরের অভিযোগ, কাঠগড়ায় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী

Published:

Dinhata

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সালিশি সভায় ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে, ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটা-২ ব্লকে (Dinhata)। ঘটনাকে (Dinhata Pregnant Woman Beaten) কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, স্থানীয় বিবাদ মেটানোর জন্য আয়োজিত সালিশি সভাতেই ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার উপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। আহত হন আরও দুইজন। আক্রান্ত মহিলা বর্তমানে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর বিজেপির

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে কোচবিহারের দিনহাটা-২ ব্লকের বড়শাকদলের কুচনি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। কোনও একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। সেই বিবাদের মীমাংসা করতে সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দুপক্ষের বচসা চরম আকার নেয় আর তখনই পঞ্চায়েত সদস্য বীণা বর্মনের স্বামী ভবসিন্ধু বর্মন ও তাঁর দলবল ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনকে মারধর করে। জানা গিয়েছে, তড়িঘড়ি ওই মহিলাকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আক্রান্ত মহিলার

আক্রান্ত মহিলার অভিযোগ, “সালিশি সভায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বীণা বর্মনের স্বামী ভবসিন্ধু বর্মন ও তাঁর দলবল আমার স্বামীকে মারধর করেছিলেন। আমি বাঁচাতে গেলে তাঁরা আমাকেও মারধর করেন। এরপর রাতের দিকে আমাকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুরে USG করা হয়েছে। রাতে ডাক্তার রিপোর্ট দেখবে।” ইতিমধ্যেই শুক্রবার বিকেলে আক্রান্ত মহিলার পরিবারের তরফে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য-সহ বেশ কয়েকজনের নামে দিনহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দেশে চতুর্থ হয়ে ইসরোয় নন্দকুমারের সৌম্যদীপ

এদিকে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। সেখানকার ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শঙ্কু সরকার বলেন, “যতদূর শুনেছি পরকীয়ার ঘটনায় সালিশি সভা ছিল। সেখানে বিজেপির আরও দুই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য হাজির ছিলেন। আলোচনা ঝামেলা হয়েছে। তবে মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।” কয়েকদিন আগেই কোচবিহারের দিনহাটার বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচনি গ্রামে বিজেপির নেতা, কর্মীদের হামলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের দেওর ও তাঁর ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মৃত সন্তান প্রসব করেন ওই মহিলা। যা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল।

google button