প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গর্বের আনন্দে হাসছে পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur), সাধারণ পরিবার থেকে এবার মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে নন্দকুমারের তরুণ সৌম্যদীপ মাইতি (Soumyadeep Maity ISRO)। জানা গিয়েছে, ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এবং সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। মেধাবী ছেলের এমন সাফল্যে গর্বিত পরিবার। আনন্দের আমেজ হাটগেছিয়ায়।
জয়েন্টে ৫৪০০ র্যাঙ্ক সৌম্যদীপের
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের দক্ষিণ হাটগেছিয়ার বাসিন্দা বছর ছাব্বিশের তরুণ সৌম্যদীপ মাইতির ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করার। বাবা ছিলেন শিক্ষক, এখন সে অবসর নিয়েছেন। মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। সৌম্যদীপের পড়াশোনার শুরু গ্রামের শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে। সেখান থেকে খঞ্চি গুণধর আদর্শ বিদ্যাপীঠে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর দশম শ্রেণি পর্যন্ত জহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এর পরে জয়েন্টে ৫৪০০ র্যাঙ্ক নিয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন IIT ধানবাদে।
চূড়ান্ত মেধাতালিকায় চতুর্থ স্থানে সৌম্যদীপ
ছোট থেকেই যেহেতু গবেষণার কাজে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা ছিল সৌম্যদীপের। তাই সেই লক্ষ্য পূরণ করতে ‘গেট’ এর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল। ২০২৫ এ গেটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩২৬ র্যাঙ্ক করেন। এরপরই আরও সুস্পষ্ট হয়েছিল স্বপ্ন পূরণের রাস্তা। গত ১৪ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে ইসরোয় ইন্টারভিউতে ডাক পান। এরপর গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত মেধাতালিকায় নির্বাচিত ২৪ জনের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করলেন সৌম্যদীপ। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক উচ্ছ্বসিত গোটা পরিবার।
আরও পড়ুন: প্রশাসনের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ, নৈহাটিতে বন্ধ হল দুই প্রাচীন কালীপুজো
কী বলছেন সৌম্যদীপ?
ছেলের এই সাফল্যে মা দীপালি মাইতি জানিয়েছেন, ‘পড়াশোনায় বরাবর ভাল ছিল। ওর বাবা সব সময় গাইড করেছে। তবে কৃতিত্ব ওরই বেশি। দিন রাত পড়াশোনায় মেতেছিল ও।’ এদিকে নিজের এই সাফল্য নিয়ে খুশিতে ডগমগ সৌম্যদীপ। তাঁর কথায়, ‘ছোট থেকে ইসরোর বিভিন্ন মহাকাশ অভিযান আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ইচ্ছা ছিল নিজের বিষয় নিয়ে গবেষণামূলক কাজ করার। তাই সেখানে কাজ করার সুযোগ আমার কাছে স্বপ্নপূরণ।’ মূলত রকেটের যান্ত্রিক বিভিন্ন উপাদানের নকশা, উৎপাদন এবং গবেষণা করবেন সৌম্যদীপ।










