রেশন দোকানেই কম দামে ওষুধ, গ্যাস সিলিন্ডার! রাজ্য সরকারের কাছে গেল চিঠি

Published:

Ration Dealer

সহেলি মিত্র, কলকাতা: চিনি থেকে শুরু করে তেল, গুড়ের দাম মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গিয়েছে। সাধারণ একটা জিনিস কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আমজনতাকে। এহেন অবস্থায় বড় প্রস্তাব দিলেন রেশন ডিলাররা (Ration Dealer)। খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রেশন ডিলারদের মাধ্যমে বিকল্প বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন।

মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন রেশন ডিলাররা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের রেশন দোকানগুলিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল-গম, জনপোষণ কেন্দ্র, জনঔষধি কেন্দ্র, পাঁচ কেজির নন-সাবসিডাইজড গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর দাবি, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগে সহযোগিতা করতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রেশন ডিলারদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছে সংগঠন।

প্রস্তাব কী?

প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টাইড-ওভার অ্যালোকেশন’-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া চাল ও গম তুলনামূলক কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি রেশন দোকানগুলির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জনপোষণ কেন্দ্র ও প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এতে খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি সুলভ মূল্যে ওষুধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন রেশন ডিলারদের সংগঠনের কর্তারা।

আরও পড়ুনঃ ‘সনাতনী মেয়র পাবে কলকাতা পুরসভা’ আসনের লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিলেন সুকান্ত মজুমদার

এ ছাড়াও পাঁচ কেজি ওজনের নন-সাবসিডাইজড গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা এবং রেশন দোকান থেকে সমস্ত ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী বিক্রির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় নীতিকে মর্যাদা দিয়ে এই ধরনের বহুমুখী বিপণন ব্যবস্থা চালু করা হলে রেশন ডিলারেরা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি কার্যকর বণ্টন ব্যবস্থার রূপরেখাও তৈরি করতে প্রস্তুত রেশন ডিলারেরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে রাজ্যের সামগ্রিক প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংগঠনের দাবি।